Home » যোশীমঠে নতুন করে ৬৮টি বাড়িতে ফাটল, পরিদর্শনে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল

যোশীমঠে নতুন করে ৬৮টি বাড়িতে ফাটল, পরিদর্শনে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যোশীমঠে কান পাতলেই শোনা যাবে বহু মানুষের আর্তনাদ। ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। নতুন করে আবার ৬৮টি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে বাসিন্দারা। কোন সময়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়বে বাড়িগুলো। চোখের সামনেই ভগ্নস্তূপে পরিণত হবে গোটা একটা এলাকা। ইতিমধ্যেই যোশীমঠকে ‘বিপর্যয়গ্রস্ত’ শহর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘বিপর্যয়গ্রস্ত’ শহরে যাচ্ছে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা খতিয়ে দেখে নিদান দেবেন কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে, ক্ষতিগ্রস্থ কোন বাড়িগুলি ভেঙে ফেলতে হবে। যোশীমঠে এই মুহূর্তে প্রশাসনের ৯টি দল কাজ করছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। বিপজ্জনক বাড়িগুলিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। শতাধিক বাড়ি বিপজ্জনক বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞের দল। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আরও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে ওই অঞ্চলে। তাই তড়িঘড়ি ওখান থেকে সব বাসিন্দাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। ঘরছাড়াদের অন্যত্র পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য হোটেল ভাড়া করেছে উত্তরাখণ্ড সরকার। যে সব বাসিন্দা বাড়ি ছাড়তে চাইছেন, তাঁদের বাড়ির কাছেই তুলনায় নিরাপদ স্থানে রাখা হচ্ছে। কিন্তু ফাটল ধরা এলাকায় কাউকেই থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। যোশীমঠের বাসিন্দাদের কীভাবে পনর্বাসন দেওয়া হবে তা জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।এদিকে,যোশীমঠের শংকরাচার্য মঠের তরফেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার জ্যোতিষপীঠ শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ জানিয়েছেন, ’২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি যোশীমঠের নরসিংহ মন্দিরে জ্যোতিষ-ধর্ম শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এবার বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হবে। এই পরামর্শ মেনেই যোশীমঠকে বাঁচাতে কিছু শাস্ত্রীয় আচার পালন চলেছেন তাঁরা।’

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ৫৬১টি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।
রবিবারই পুষ্কর সিং ধামি টুইটারে জানিয়েছেন, মোদি তাঁকে ফোন করে সব খবর নিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি খোঁজ করেছেন তিনি। এদিন দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ‘ডুবন্ত শহর’ যোশীমঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এদিকে যোশীমঠ নিয়ে মামলা পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। জ্যোতির্মঠের শংকরাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ শীর্ষ আদালতের আরজি জানিয়েছেন, এই সংকটকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আরজিও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে কাজে নামার অনুরোধও করেছেন শংকরাচার্য। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নকে কাঠগড়ায় তুলে কার্যতই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। এদিকে, ফাটল ঘিরে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় যোশীমঠ খালি করে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে চপারও।

About Post Author