Home » তিন বছর আগেই ভূমিধস শুরু হয়েছিল যোশীমঠে,ধরা পড়ল সমীক্ষায়

তিন বছর আগেই ভূমিধস শুরু হয়েছিল যোশীমঠে,ধরা পড়ল সমীক্ষায়

ঈউুসময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ নিয়ে সমীক্ষায় ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেহরাদূনের সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গঢ়ওয়াল হিমালয়ের জোশীমঠ এবং সংলগ্ন এলাকা ধীরে ধীরে ডুবতে বসেছে। বছরে আড়াই ইঞ্চি বা ৬.৫ সেন্টিমিটার করে মাটি বসে যাচ্ছে। একটু একটু করে ফাটল ধরছে বাড়ির ভিতগুলোতে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছর মার্চ অবধি পাওয়া উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ভূমিধস শুরু হয়েছিল তিন বছর আগে থেকেই। ছবিতে দেখা গিয়েছে, জোশীমঠের নীচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ হামেশাই হচ্ছে, ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। রিপোর্ট আরও বলছে, ওই সময় জোশীমঠ ও আশপাশের এলাকার পাহাড়েও ফাটল দেখা দিয়েছিল।

তবে, এবার সেই পরিস্থিতিই ভয়াবহ আকার ধারণ করল। উত্তরাখণ্ড সরকার রীতিমতো নোটিস দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে জোশীমঠের এখন যা পরিস্থিতি তাতে এই শহর আর বসবাসের জন্য উপযুক্ত এবং নিরাপদ নয়। জোশীমঠকে ‘বিপর্যয়গ্রস্ত’ শহর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, শুধুমাত্র জোশীমঠ নয়, আশেপাশের এলাকাগুলিতেও মাটি বসে যাচ্ছে। ৯০ কিলোমিটার দূরে কর্ণপ্রয়াগ, আউলিতেও একাধিক বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এনটিপিসির তপোবন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুরঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলছে। বর্তমানে জোশীমঠের ১১০টিরও বেশি পরিবার ঘরছাড়া। সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই জোশীমঠকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব গোটা শহরটিই ফাঁকা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙার কথা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও হোটেল মালিকদের বিক্ষোভের কারণে তা শুরু করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ৫৬১টি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।

রবিবারই পুষ্কর সিং ধামি টুইটারে জানিয়েছেন, মোদি তাঁকে ফোন করে সব খবর নিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি খোঁজ করেছেন তিনি। এদিন দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ‘ডুবন্ত শহর’ যোশীমঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এদিকে যোশীমঠ নিয়ে মামলা পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। জ্যোতির্মঠের শংকরাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ শীর্ষ আদালতের আরজি জানিয়েছেন, এই সংকটকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আরজিও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে কাজে নামার অনুরোধও করেছেন শংকরাচার্য। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নকে কাঠগড়ায় তুলে কার্যতই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। এদিকে, ফাটল ঘিরে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় যোশীমঠ খালি করে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে চপারও।

About Post Author