Home » আতঙ্ক বাড়ছে যোশীমঠে

আতঙ্ক বাড়ছে যোশীমঠে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারিঃ উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠ বিপর্যস্ত। বাড়িঘর, দোকানপাট, হোটেল, রাস্তা সব গ্রাস করে নিচ্ছে সর্বগ্রাসী ভূমিধস। ঘরছাড়া শয়ে শয়ে পরিবার। এই পরিস্থিতিতে এবার বড় ঘোষণা বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান অজেন্দ্র অজয়ের। যত দ্রুত সম্ভব মন্দিরের সমস্ত সম্পদ,বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপো নিরাপদে পিপলকোটিতে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যোশীমঠে বিপর্যয় প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নৃসিংহ মন্দিরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান অজেন্দ্র অজয়ের দাবি, নৃসিংহ মন্দির নিয়ে এখনই কোনও চিন্তার কোনও কারণ নেই। তবে,মন্দিরের প্রায় ৩০-৩৫ কুইন্টাল রুপো এবং ৪০-৪৫ কেজি সোনা পিপলকোটিতে মন্দির কমিটির গেস্টহাউসে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


ইতিমধ্যেই যোশীমঠ নিয়ে সমীক্ষায় ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেহরাদূনের সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গঢ়ওয়াল হিমালয়ের জোশীমঠ এবং সংলগ্ন এলাকা ধীরে ধীরে ডুবতে বসেছে। বছরে আড়াই ইঞ্চি বা ৬.৫ সেন্টিমিটার করে মাটি বসে যাচ্ছে। একটু একটু করে ফাটল ধরছে বাড়ির ভিতগুলোতে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছর মার্চ অবধি পাওয়া উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ভূমিধস শুরু হয়েছিল তিন বছর আগে থেকেই। ছবিতে দেখা গিয়েছে, জোশীমঠের নীচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ হামেশাই হচ্ছে, ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। রিপোর্ট আরও বলছে, ওই সময় জোশীমঠ ও আশপাশের এলাকার পাহাড়েও ফাটল দেখা দিয়েছিল।


কার্যত সেকারণেই যোশীমঠে একদিকে যেমন সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তরফে মডেল শহর গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তেমনই কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের তরফেও তিন-স্তরীয় অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, যে বিল্ডিংগুলি সম্পূর্ণ বিপদজনক, সেগুলিকে ভেঙে ফেলতে হবে। বাকি ৪ হাজার বিল্ডিং কতটা সুরক্ষিত ও মজবুত, তার সেফটি অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিবিআরআই-র ডিরেক্টর আর প্রদীপ কুমার। সোমবারই সিবিআরআই-র ডিরেক্টর সংস্থার বিজ্ঞানীদের নিয়ে যোশীমঠ ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। সিবিআরআই-র তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে আধুনিক খরচ সাপেক্ষ বিল্ডিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুরক্ষিত জায়গা চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক শহর তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

About Post Author