সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারি: কথায় আছে সুন্দরবনের ‘জলে কুমির-ডাঙায় বাঘ’। জল-জঙ্গলে ঘেরে দ্বীপভূমিতে পদে পদে আতঙ্ক। ঘন জঙ্গলের আশেপাশে একেকটি দ্বীপে গড়ে উঠেছে বসতি। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলির সঙ্গে বড় শহরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা বা লঞ্চ। গুরুতর অসুস্থ রোগী হোক বা সন্তানসম্ভবা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে আসতেও ভরসা সেই নৌকা। তাই সুন্দরবনের অন্দরে ভালো মানের চিকিৎসা পাওয়া আজও প্রায় অসম্ভব।

এই সমস্ত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষদের উন্নতমানের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে গত ১৬ জানুয়ারী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন ‘দুয়ারে ডাক্তার’ প্রকল্প। সেইমতো উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনে পৌঁছে গেলেন বিশিষ্ট চিকিৎসকদের একটি দল। কলকাতার এসএসকেএম, আরজি কর হাসপাতালের মোট ৩৮ জন চিকিৎসক এই দুয়ারে চিকিৎসক প্রকল্পে অংশ নিলেন। প্রত্যন্তগ্রাম ও দূর্গম জায়গাগুলিতে সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছায় না বলে দীর্ঘেদিনের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দূয়ারে সরকারের প্রকল্পের মত দূয়ারে চিকিৎসক প্রকল্প চালুর কথা বলেছিলেন।

সেইমতো উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের রামেশ্বরপুর বরুণহাটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে পৌছে যান চিকিৎসকেরা। ব-দ্বীপের এই ব্লকে চিকিৎসক দলটি সঙ্গে ওষুধ ও নিয়ে গিয়েছেন। নৌকায় চড়ে দ্বীপে পৌছে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা শুরু করেন তাঁরা। ঘরের দুয়ারে কলকাতার নামি চিকিৎসকদের পেয়ে গ্রামের মানুষ এগিয়ে আসেন নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে। এই দিনের ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক শরৎ কুমার দ্বিবেদী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বসিরহাটের বিধায়ক চিকিৎসক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি