Home » হৈমন্তীর ফ্ল্যাটের বাইরে উদ্ধার রহস্যজনক কাগজ

হৈমন্তীর ফ্ল্যাটের বাইরে উদ্ধার রহস্যজনক কাগজ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ ফেব্রুয়ারিঃ পরতে পরতে খুলছে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের রহস্য। এবার হৈমন্তীর ফ্ল্যাটের পাশে আবর্জনার স্তূপ থেকে থেকে উদ্ধার হল রহস্যজনক কাগজ। যে কাগজে ছাপার অক্ষরে লেখা রয়েছে একাধিক সিরিয়াল নম্বর ও রোল নম্বরের মতোই কিছু সংখ্যা। তবে কি নিয়োগ-চক্রে ধীরে ধীরে জড়িয়ে যাচ্ছেন গোপাল দলপতির দ্বিতীয় স্ত্রী? বেহালায় হৈমন্তীর ঘরের বাইরে থেকে শনিবার এই কাগজ উদ্ধার হওয়ার পরই ঘনীভূত হয়েছে আরও প্রশ্ন। শিক্ষামহলের একাংশ এবং তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, এগুলো আসলে রোল নম্বরই। তবে এই নম্বর কাদের, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

সাধারণত চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে ৯ ডিজিটের রোল নম্বর হয়। এদিকে,উদ্ধার হওয়া কাগজে ৯টি নম্বরই লেখা রয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি ছবির স্ক্রিপ্ট। যে ছবিতে হৈমন্তীর চরিত্রের নাম পারমিতা। এই স্তূপে পড়ে রয়েছে কম্বল থেকে শুরু করে একাধিক বাক্স, বস্তা, আরও অনেক কিছু। এমনকী পড়ে রয়েছে বিয়ের কার্ড, ফাইল, যেখানে অধিকাংশ কাগজেই নাম লেখা রয়েছে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের। পড়ে থাকা একাধিক ফাইলের থেকেই পাওয়া গিয়েছে কিছু শেয়ারের কাগজও। যেখানে সই রয়েছে হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের। সেই কাগজে ঠিকানা হিসাবে উল্লেখ রয়েছে, কাঠুরিয়াপাড়া উত্তর বাকসাড়া। অর্থাৎ হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ঠিকানা। এছাড়াও ২০১৩ সালের একটি শেয়ার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মও পাওয়া গিয়েছে, যেখানে বোর্ড অব ডিরেক্টরকে লেখা। বাবার নাম হিসাবে রয়েছে সাধন গোপাল গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম।

এক কাঠের মিস্ত্রির কথায়, নার্সের চরিত্রে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যাময়। হৈমন্তীকে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন টলিউডের এক নামী পরিচালক। আবার অন্যপ একটি ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন এক ব্যোবসায়ীর হাত ধরে। টালিগঞ্জের মাত্র তিনটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পেলেও হৈমন্তী মডেল বা অভিনয়ে থেমে থাকেননি। রীতিমতো নিজের বিনোদন সংস্থা খুলে বসেছিলেন তিনি। সিবিআইয়ের ধারণা, ওই বিনোদন সংস্থার মাধ্য।মেই পাচার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। গোপাল-হৈমন্তীর এক ডজন সংস্থার মাধ্য মে পাচার হয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা। এখনও পর্যন্ত গোপাল দলপতি ওরফে আরমান গঙ্গোপাধ্যাকয় ও হৈমন্তী গঙ্গোপাধ্যা য়ের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই। যদিও গোয়েন্দাদের মতে, ওই সম্পত্তির বাইরে আরও বহু সম্পত্তি রয়েছে গোপাল-হৈমন্তীর। ওই সম্পত্তির পরিমাণ দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালে বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল টাকা গোপাল দলপতির কাছে আসতে শুরু করে। আর তখন থেকেই দুজনের শুরু হয় সম্পত্তি কেনার পালা। ২০১৫ সালে গোপাল শুধুমাত্র নতুন সংস্থা খোলার জন্য ও নিত্যজনতুন সম্পত্তি কিনতেই নিজের নাম পরিবর্তন করেন। এখনও পর্যন্ত ইডি ও সিবিআইয়ের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলায় নামে ও বেনামে প্রায় ২০০ বিঘা জমি ও কোথাও জমির উপর বাড়িও রয়েছে। বীরভূমে গোপাল-হৈমন্তীর হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। হাওড়ায় বাপের বাড়ি ছাড়াও টালিগঞ্জের অদূরে বেহালার মুচিপাড়ার কাছে রাজা রামমোহন রায় রোডে একটি ফ্ল্যা টের হদিশ মিলেছে।

About Post Author