Home » নিয়োগ দুর্নীতির জের,পুরসভাগুলিতে গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রে চালু নয়া নিয়ম

নিয়োগ দুর্নীতির জের,পুরসভাগুলিতে গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রে চালু নয়া নিয়ম

সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ মার্চঃ  রাজ্যের পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক। পুরসভাগুলিতে গ্রুপ ডি নিয়োগের ক্ষেত্রে চালু নয়া নিয়ম,বুধবার এমনটাই জানালেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন তিনি বলেন, গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের পুরোটাই হবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে। একটি কমিটি গড়ে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখাশোনা করবেন জেলাশাসক। অন্যান্য নিয়োগ মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হবে। উল্লেখ্য, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পরই ইডির নজরে ছিল অয়ন। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আরও পড়ুন   ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ পোস্টারে ছয়লাপ দিল্লি! গ্রেফতার ৬

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি। এই ভুয়ো নিয়োগ পক্রিয়া প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। যদিও এদিন সংবাদমধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানিয়েছে,’এই ভুয়ো নিয়োগের ব্যাপারে তাঁর কিছুই জানা নেই। তদন্ত হলেই সবটা সামনে আসবে। তবে,এখন থেকে গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের পুরোটাই হবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে।’

উল্লেখ্য,সোমবার ভোররাতে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর,অয়নকে শান্তনুর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। শান্তনু ঘনিষ্ঠ এই প্রোমোটারকে শনিবার ৯টা নাগাদ আটক করে ইডি। এরপরই অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন  জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, মৃত ১১


সূত্রের খবর,প্রোমোটার অয়নের একই আবাসনে ফ্ল্যাট রয়েছে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়েরও৷ যদিও নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে আগেই ইডি স্ক্যানারে নাম ছিল এই অয়ন শীলের। শনিবার তল্লাশির জন্য শান্তনুর ফ্ল্যাটের তালা ভাঙতে ডাকা হয় চাবিওয়ালা ববি পালকে। অন্যদিকে, শনিবার সকাল ১০ টা নাগাদ শান্তনুর রিসোর্টে তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। সেখানে বলাগড় থানার সিভিক ভলেন্টিয়ার নিলয় মালিক, শ্রীপুর বলাগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বিশ্বরূপ প্রমাণিক ও আকাশ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে জেরা।

About Post Author