সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মার্চ: মঙ্গলবারই ওড়িশার রাজধানী ভূবনেশ্বর পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তিনি যাচ্ছেন বাঙালির অতি প্রিয় সৈকত শহর পুরীতে। কথা আছে বুধবার বিকেলেই তিনি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরেও পুজো দেবেন। কিন্তু এদিনই চার ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দরজা। কোনও দর্শণার্থী ও ভক্তকেই ওই সময় মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বুধবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে জগন্নাথ মন্দিরের দরজা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার আগে পুরীর মন্দির বন্ধ রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা। তবে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট মেনে এই অনুষ্ঠান আগে থেকেই হওয়ার কথা ছিল।
আরও পড়ুন তিন বছরেই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি, ১৪ একরের আশ্রম! কে এই করোলি বাবা?
কেন বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির?
প্রতি বছর চৈত্র মাসের প্রতিপদ তিথিতে এক বিশেষ রীতি পালন করা হয় জগন্নাথ মন্দিরে। যাকে বলা হয় ‘বানাকা লাগি’। এই সময় ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার শৃঙ্গার করা হয়। তাই এই সময় কোনও ভক্তের প্রবেশ নিষেধ। বুধবার চৈত্র মাসের প্রতিপদ তিথি পড়ায় বানাকা লাগি বা বিগ্রহের শৃঙ্গার অনুষ্ঠান হবে। আর এই কারণেই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। ফলে মুখ্যমন্ত্রী কখন পুজো দিতে পারবেন তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে বছরে সাত-আট বার এই রীতি পালন করা হয়।
আরও পড়ুন মমতার পথে এবার তামিলনাড়ুতেও ‘লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার’! কত টাকা পাবেন মহিলারা?
‘বানাকা লাগি’ রীতি অনুযায়ী, নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয় ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। তবে যে কোনও সেবায়েত এই কাজ করতে পারেন না। ভগবানের শৃঙ্গারের দায়িত্বে থাকেন মাত্র কয়েকজন বিশেষ সেবায়েত। তাঁদের দত্ত মহাপাত্র বলা হয়। যারা বংশ পরম্পরায় এই কাজ করেন। বিগ্রহগুলিতে চার ঘণ্টা ধরে শৃঙ্গার করানো হয়। শৃঙ্গারের পর বিগ্রহ রাখা হয় রত্ন বিছানায়। আর শৃঙ্গারের জন্য ব্যবহার করা হয় জঙ্গলের চার প্রাকৃতিক উপাদান। লাল রঙের জন্য হরিলতা, হলুদ রঙের জন্য হেঙ্গুলা, সাদা রঙের জন্য শঙ্খ এবং জগন্নাথ দেবের জন্য বিশেষ কালো রঙ ব্যবহার করা হয়।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভূবনেশ্বরে পা দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন. ‘যখনই ওড়িশা আসি, আমি চেষ্টা করি পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার। এবারও যাব’। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, বাংলার মানুষের মঙ্গলকামনায় জগন্নাথ দেবের কাছে পুজো দেবেন। পুরীতে এসে তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবেন। বাঙালির অতি প্রিয় ভ্রমণ ঠিকানায় রাজ্য সরকারের অধীনে একটি অতিথি নিবাস বা গেস্ট হাউস নির্মানের কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অতিথি নিবাসের জন্য বেছে রাখা জমি দেখবেন এবং নকশাও খতিয়ে দেখবেন। এরপরই তাঁর জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ রীতি পালনের অনুষ্ঠান পড়ে যাওয়ায় এখন তাঁর পুজো দেওয়ার বিষয়টি ঝুলে রইল।



More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
ভিনু মানকড় : ক্রিকেটের অবিস্মরণীয় নাম