Home » নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থর মুখে এবার সুজন-দিলীপ-শুভেন্দুর নাম

নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থর মুখে এবার সুজন-দিলীপ-শুভেন্দুর নাম

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চ:  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে হাজির করানো হয়। এদিন আদালতে ঢোকার মুখে সংবাদমাধ্যমের সামনে গর্জে ওঠেন তিনি। রীতিমতো ক্ষোভ উগড়ে দেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতাদের বিরুদ্ধে। এদিন তাঁর নিশানায় যেমন ছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, তেমনই নিশানা করলেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীকেও। বাংলার রাজনৈতিক আবহে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। এদিন ঠিক কি বললেন জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়?

বৃহস্পতিবার আদালতে ঢোকার পথে পার্থ বলেন, ‘‘যে সুজন চক্রবর্তী, দিলীপবাবু, শুভেন্দুবাবুরা বড় বড় কথা বলছেন, তাঁরা নিজের দিকে দেখুন। উত্তরবঙ্গে তাঁরা কী করেছেন? ২০০৯-১০-এর সিএজি রিপোর্ট পড়ুন। সমস্ত জায়গায় তদ্বির করেছেন, কারণ, আমি তাঁদেরকে বলেছি করতে পারব না। আমি নিয়োগকর্তা নই। এ ব্যাপারে কোনও সাহায্য তো দূরের কথা আমি কোনও কাজ বেআইনি করতে পারব না’’।

আরও পড়ুন  একই পঞ্চায়েতে চাকরি করতেন অয়ন-শ্বেতা, সেখান থেকেই কী দুর্নীতি শুরু?

এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর ২০১১-১২ সালটা দেখুন না! দেখুন না, কী করেছিলেন তাঁরা”। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে এনেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, বাম আমলে চিরকুটে চাকরি হতো। আমি তাঁদের চাকরি খাইনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃহস্পতিবার একই অভিযোগ করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে তিনি শুধু বাম নেতা নয়, টেনে আনলেন বিজেপি নেতাদেরও।

যদিও পার্থর এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ এবং সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর নাম তুলেছেন এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘জেলে গিয়ে মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। যে সময়ের কথা (২০০৯-১০) বলছেন তখন আমি রাজনীতিতেই আসিনি’। দিলীপ ঘোষের আরও দাবি, ‘এ সব চক্রান্ত করে কোনও লাভ নেই। প্রমান হলে জেল খাটব’। অপরদিকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করেন, ‘মাথা গোলমাল হলে অনেক কিছু হয়। ওর মাথাটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯-১০ সালের কথা বলছেন, সেই সময় পার্থ কোথায় ছিলেন? তখন তো উনি সরকারের কেউ না বলেই আমার ধারণা। উনি তো বিরোধী দলে! মাথাটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কেন হবে না বলুন তো! অনুব্রতের পাশে দল আছে, পার্থের পাশে কেউ নেই’। সবমিলিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল।

About Post Author