পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,:৬ এপ্রিল :
সেলিম দুরানির পরে সুধীর নায়েক (Sudhir Naik )। বুধবার না-ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতের প্রাক্তন টেস্ট ওপেনার সুধীর নায়েক। প্রয়াণ কালে প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার সুধীর নায়েকের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে খুব বেশি ম্যাচ খেলেন নি। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনটি টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ১৪১ রান। তাঁর ছোট্ট টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯৭৪ সালের এজবাস্টন টেস্টে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে করা সাহসী ৭৭ রান আজও অতীতের ক্রিকেট প্রেমীরা মনে রেখেছেন। তবে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সফল হন নি। চারটি ইনিংস খেলে একটি ৪৮ রানের ইনিংস ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু ছিল না। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি ইংল্যান্ড সিরিজেই দুটি একদিবসীয় ম্যাচে দলে সুযোগ পান। একদিনের ম্যাচে সফল না হলেও খুব একটা ব্যর্থ ও সুধীর নায়েক হন নি। কিন্তু ওয়েস্টইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনটি টেস্ট ইনিংসের ব্যর্থতা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টেনে দেয়।

টেস্টে যাই হোক ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ সফল সুধীর নায়েক।মুম্বাইয়ের (তৎকালীন বম্বে ) হয়ে বহুদিন খেলেছেন তিনি । অধিনায়কও ছিলেন মুম্বাই দলের। রঞ্জিতে ৪০ এর ওপরে ব্যাটিং গড় সুধীর নায়েকের ।বরোদার বিরুদ্ধে রঞ্জিতে দ্বিশতরান রয়েছে তাঁর।তাঁর অধিনায়কত্বে ৭০-৭১ সালের রঞ্জি ট্রফি জয়ী হয়েছিল মুম্বাই।

মাঠে এবং মাঠের বাইরে মাথা উঁচু করে বেঁচেছেন সুধীর নায়েক। আট বছর আগের ঘটনা।তখন মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন তথা ওয়াংখেড়ের স্টেডিয়ামের দায়িত্বে তিনি। পিচ কিউরেটারের যাবতীয় দায় দায়িত্ব ও তাঁর । ২০১৫ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মুম্বাইয়ে একদিবসীয় ম্যাচে সেবার খুব খারাপ ভাবে ভারত হারে। ম্যাচের ভাগ্য কার্যত দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংএর সময়-ই নির্ধারিত হয়ে যায়। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ৪৩৮ রান তোলে। বিরতিতে ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রী মাঠের দায়িত্বে থাকা প্রবীণ ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব সুধীর নায়েককে বিদ্রুপ ভরে অপমান করতে ছাড়েন নি। পাটা উইকেটের জন্য ব্যঙ্গ করে শাস্ত্রী প্রাক্তন ভারতীয় টেস্ট ব্যাটসম্যান তথা মুম্বাইয়ের প্রাক্তন অধিনায়ক সুধীর নায়েককে বলেছিলেন, ” দারুণ কাজ, অসামান্য পিচ “। এতে অসম্মানিত বোধ করেন সুধীর নায়েক।মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুধীর নায়েক। আত্মমর্যাদার প্রশ্নে কে ভারতীয় দলের ডিরেক্টর তাতে সুধীর নায়েকের বয়েই গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, তাঁর কাজ তাঁকে কেউ যেন না শেখাতে আসে। আর বলবেন-ই না কেন! যে পিচে ভুবনেশ্বর কুমার দশ ওভারে ১০৬ রান দিয়েছিলেন,মোহিত শর্মা সাত ওভারে ৮৪ রান দিয়েছিলেন,সেই পিচেই আগুন ঝরান ডেল স্টেইন ও রাবাডা।২২৪ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। শাস্ত্রীর অপমানের প্রতিবাদে সুধীর নায়ক যে অবস্থান নিয়েছিলেন তা অনেক দূর গড়িয়েছিল।শেষে আরেক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার দিলীপ বেঙসরকারের হস্তক্ষেপে নিজের অভিযোগ ফিরিয়ে নেন সুধীর নায়েক। তবে রবি শাস্ত্রীর মার্জনা স্বীকারের আগে তিনি ছিলেন অটল। প্রকৃত ভদ্রলোক এবং নীতি- আদর্শে ও আত্মসম্মানে বিশ্বাসী মানুষটি চলে গেলেন চির ঘুমের দেশে।।


More Stories
জাপানকে হারাতে ল্যাজেগোবরে শ্রেয়সরা, জয় ২ রানে
রিচার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভারত ২১৭ রানের টার্গেট দিল শ্রীলঙ্কাকে
জাপানে সুচিকার পদক জয় এমএমএ-তে, জেনে নিন এমএমএ সম্পর্কে