সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ এপ্রিল: রবিবার কোন্নগর বাটার মোড় থেকে উত্তরপাড়া গণভবন পর্যন্ত শান্তি মিছিল করে হুগলি জেলা বামফ্রন্ট এবং বাম সহযোগী দলসমূহ। এদিন মিছিল শেষ হয় উত্তরপাড়া গৌরী সিনেমা হলের সামনে। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বিমান বসু এবং মহম্মদ সেলিম। রামনবমীকে হাতিয়ার করে জেলার রিষড়ায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করেছিল সংঘ পরিবার। বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মত সংগঠন গুলি। রিষড়া’র ৪ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক তান্ডব চালায় বলে এদিন অভিযোগ করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম। এরই প্রতিবাদে, এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবিতে রবিবার রিষড়া সংলগ্ন কোন্নগর থেকে শান্তি মিছিল করলেন জেলার বামপন্থী কর্মীরা। এই মহামিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন ১০টি বামপন্থী দল সহ অন্যান্য গণসংগঠন। পঞ্চায়েত ভোটের আগে এদিনের মিছিলে বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।

এদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলার নেতা শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র সহ শীর্ষ বাম নেতৃত্ব। রাজ্য বামফ্রন্টের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবারের পাশাপাশি সোমবারও শান্তি মিছিল করা হবে। সোমবার শান্তি মিছিল হবে হাওড়ার শিবপুর সংলগ্ন এলাকায়। রিষড়ার পাশাপাশি হাওড়ার শিবপুরের পিএম বস্তিতেও রামনবমীর মিছিল থেকে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।
আরও পড়ুন হুগলিতে বামফ্রন্টের মিছিলের রুট বদলালো পুলিশ!

উল্লেখ্য,গত ৩০ মার্চ রামনবমীর দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অস্ত্রসহ মিছিল সংগঠিত হয়েছে। উৎসবের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। রিষড়ায় রামনবমীর মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ, শ্রীরামপুরে বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মোহন আদক-সহ একাধিক নেতা,বিধায়ক। অশান্তির জেরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের। যদিও নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে সময়মতো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বড় কোনও বিপদ হয়নি। এরপরই টানা তিনদিন ধরে এলাকায় মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। সূত্রের খবর,রিষড়া ৫ নং ওয়ার্ড এলাকায় জিটি রোডের উপর আচমকাই মিছিলে হামলা চলে বলে অভিযোগ। চলে ইটবৃষ্টি। তাতে মোহন আদকের গাড়ির কাঁচ ভাঙে, আহত হন বিধায়ক বিমান ঘোষও। তাঁদের তড়িঘড়ি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত বিধায়ককে হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হাসপাতালে। সরব বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে কার্যত ফেটে পড়েন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি