Home » রাজধানীর বুকে পা ডিএ আন্দোলনের!

রাজধানীর বুকে পা ডিএ আন্দোলনের!

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ এপ্রিল: কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে ১০ ও ১১ এপ্রিল দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রবিবার সকালের প্রায় ৩০০ জন সরকারি কর্মচারী পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লিতে। সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হবে। সেখানে উল্লেখ থাকবে রাজ্য সরকারের বঞ্চনার কথা। বিগত ৭৩ দিন ধরে শহিদ মিনারের নীচে অনশন কর্মসূচি চালিয়েছে ডিএ আন্দোলনকারীরা। তাদের তিন দফা দাবি হল, রাজ্যের সরকার কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ দিতে হবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে শূন্যপদে নিয়োগ করতে হবে এবং অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করতে হবে। কিন্তু, সরকার এসব দাবি শুনেও কর্ণপাত করেনি। তাই দিল্লিতে ধর্নায় বসবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। জানা গিয়েছে,দিল্লির ধর্নামঞ্চে ধারাবাহিক কর্মসূচি থাকবে। নিজস্ব গান কবিতা থাকবে। তবে বাংলা ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরাজী ভাষাতে কবিতার মাধ্যমে তাদের বক্তব্য পেশ করা হবে। লাইভ আর্ট প্রদর্শন করতে শিল্পীরা আসছেন। সুতরাং কলকাতার পর রাজধানীর রাজপথে ডিএ আন্দোলনের ঝাঁজ যে আরও বাড়তে চলেছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

অন্যদিকে, দীর্ঘ জট কাটিয়ে আগামী ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি হতে চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে মামলাটি উঠবে বলেই সূত্রের খবর। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায়দান দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এদিকে,বৃহস্পতিবারই ডিএ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারকে আলোচনায় বসার নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। ১৭ এপ্রিলের মধ্যে কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন    অনলাইন গেমিংয়ে আসক্ত? খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে নয়া নিয়ম!

প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

About Post Author