Home » ৯ ঘণ্টা সিবিআই জেরার মুখে অরবিন্দ কেজরিওয়াল

৯ ঘণ্টা সিবিআই জেরার মুখে অরবিন্দ কেজরিওয়াল

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ এপ্রিল: রবিবার টানা ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর সিবিআই দফতর থেকে বেরোন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ সিবিআই দফতরে পৌঁছান কেজরিওয়াল। সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়েই অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানান, কোনওরকম আপোষ তিনি করবেন না। সূত্রের খবর,এদিন তাঁকে মোট ৫৬টি প্রশ্ন করা হয়েছিল। আবগারি দুর্নীতি মামলায় গত শুক্রবারই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তলব করেছিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তলবের পর থেকেই কেজরির গ্রেফতারির আশঙ্কা করছিল দল আম আদমি পার্টি। এদিন তেমন কিছু না ঘটলেও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে বেশ কয়েকজন আপ নেতা।


উল্লেখ্য, এই আবগারি মামলাতেই গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলবন্দি দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। শুক্রবারই এক বক্তৃতায় কেজরিওয়াল দেশবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি বলেন, দেশবিরোধী শক্তির বাড়বাড়ন্তেই প্রগতি থমকে গিয়েছে। তারপরেই তাঁকে তলব করল সিবিআই। এদিকে,সিবিআই তলবের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘দিল্লি আবগারি মামলায় ধৃতদের নির্যাতন করা হচ্ছে। তাঁদের চাপ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাম বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতদিন ধরে তদন্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বেআইনি এক পয়সাও খুঁজে বের করতে পারেনি। ’


প্রসঙ্গত, আবগারি দুর্নীতি মামলায় দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া গ্রেপ্তার হতেই আপের আশঙ্কা ছিল, মণীশকে জেরা করার সূত্র ধরে এরপর মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকেও নোটিস পাঠাবে সিবিআই, ইডি। কারণ যে অভিযোগে সিসোদিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি আদতে মন্ত্রিসভার একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। দিল্লির যে মদনীতিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং সেই সূত্রে আপের তহবিলে মোটা টাকা জমা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেটি অনুমোদন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বয়ং। শুধু তাই নয়, ওই নীতি তৈরির প্রক্রিয়াতেও যুক্ত ছিলেন কেজরিওয়াল। কেজরিওয়ালের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টকেও ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি, সিবিআই। প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনিও ঘন ঘন মোবাইল সেট এবং সিম বদল করেছেন। সিবিআই, ইডির আইনজীবীরা আদালতে প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নীতি কেন তৈরি করা হয়েছিল? এবার সেই প্রশ্নের সদুত্তর পেতে মুখ্যমন্ত্রীকে তলব করা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন   বিধায়কের ফোন খুঁজতে পুকুরে নেমে শোলমাছ ধরতে ব্যস্ত উদ্ধারকারীরা


উল্লেখ্য,গত বছরই দিল্লির আবগারি নীতি নিয়ে বিতর্কের দানা বেঁধেছিল। এরপরই দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভিকে সাক্সেনার নির্দেশেই দিল্লির আবগারি নীতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ইডি ও সিবিআই। কারণ, আবগারী বা মদ বিক্রি নীতিতে মূল অভিযোগই ছিল বেআইনিভাবে পথে অর্থ উপার্জন। তিন মাস আগেই সিবিআই এই মামলার চার্জশিটও পেশ করে। সিবিআইয়ের ওই চার্জ শিটে মণীশ সিসোদিয়া সহ ১৫ জনের নাম ছিল। ১১ পাতার ওই চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টের নথি পাওয়া গেছে বলে দাবি সিবিআইয়ের। মনীশের বিরুদ্ধে সিবিআই যে ধারাগুলিতে মামলা দায়ের করেছিল, তারমধ্যে দুটি ধারা ইডির প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট-এর অধীনে তদন্তের অধীনে পড়ে। সেগুলি হল, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০-বি এবং ৪৭৭। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৭ নম্বর ধারার মামলা দায়ের হয়েছিল।

About Post Author