Home » গরু পাচার মামলায় ৩ দিনের ইডি হেফাজতে অনুব্রত কন্যা সুকন্যা

গরু পাচার মামলায় ৩ দিনের ইডি হেফাজতে অনুব্রত কন্যা সুকন্যা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ এপ্রিল: ৩ দিনের ইডি হেফাজতে অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মণ্ডল। বৃহস্পতিবার এমনটাই নির্দেশ দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট। এদিন দুপুরে সুকন্যাকে আদালতে পেশ করা হয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিল। ইডির সেই আবেদন মেনে ৩ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় ইডি। গরু পাচার মামলায় বুধবার সুকন্যা মণ্ডলকে গ্রেফতার করার পর দু’দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করার আগে আরও একদফা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তাঁর। ইডির তরফে এদিন আদালতে জানানো হয়েছে, গরু পাচারের টাকা কোথায় গিয়েছে, কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, এসব জানার জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া ইডি আধিকারিকরা সুকন্যাকে অনুব্রতর মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করতে চান। ইডির দাবি মেনে নিয়ে সুকন্যাকে ৩ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে রাউস অ্যাভিনিউ কোর্ট।

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় গত বছরের আগস্টে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারের পর তাঁর বর্তমান ঠিকানা দিল্লি। গ্রেফতারির পর থেকে নামে বেনামে অনুব্রতর একাধিক সম্পত্তির হদিশ পান তদন্তকারীরা। সুকন্যার নামেও বহু সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। সুকন্যাকে জেরা করার জন্য এর আগেও তিন দফায় দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু তিনবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। বুধবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছিল। এদিন হাজিরা দিলেও ইডির একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দেননি বলে খবর ইডি সূত্র। জানা গিয়েছে, সুকন্যাকে তাঁর সম্পত্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব প্রশ্নেই তিনি বাবা অনুব্রত মণ্ডল বা হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারি জানেন বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়েই শেষে সুকন্যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।


উল্লখ্যে,গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরই অনুব্রতর সম্পত্তির খোঁজে তল্লাশি করতেই উঠে আসে তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের নাম। তাঁর নামে একাধিক সম্পত্তি ও কোম্পানির হদিশ মেলে। এছাড়াও সামনে আসে বোলপুরে কোটি কোটি টাকার জমির পাশাপাশি তৃণমূল নেতার একাধিক রাইস মিলের একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। পেশায় একজন শিক্ষিকা হয়ে কি করে এত সম্পত্তির মালিক হলেন সুকন্যা, তা জানতেই অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর সুকন্যাকে দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। কিন্তু সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর বাবা ও হিসাবরক্ষকের কাছেই রয়েছে।


এদিকে, গত মাসেই গরু পাচার মামলায় সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলিকে তলব করেছিল ইডি। সূত্রের খবর,বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকার কারণে মহম্মদ আলিকে দ্বিতীয়বারও তলব করা হয়েছে। এর আগে গরু পাচার মামলায় সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলিকে দু’দফায় প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করে ইডি। ইডি-র দাবি, পাচারকারীদের সাহায্যের জন্য মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ পেতেন সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। এমনকী তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বেশ কিছু সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই তাঁকে দিল্লিতে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,গরু পাচার চক্রের সঙ্গে যে মোটা অঙ্কের কালো টাকা জড়িয়ে রয়েছে,সেই কালো টাকা কীভাবে সাদা করা হত, তা জানতেই ফের তলব করা হয়েছে। এই গরু পাচারের টাকা কোন পথে ঘোরানো হত, কোন সংস্থায় কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে,কার নির্দেশ মতো এই টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, সেইসব বিষয়ে জানতেই শনিবার সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ শেখ আলিকে তলব করা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর।

About Post Author