সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ এপ্রিল: কালিয়াগঞ্জে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগের মামলায় এবার রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, মঙ্গলবারের মধ্যে কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশও দেন বিচারপতির রাজাশেখর মান্থা। বুধবারই সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন মৃতার বাবা। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, ২০ এপ্রিল নাবালিকাকে খুন করে ধর্ষণ করা হয়। পুলিশ তার দেহ নৃশংসভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছে। এমনকী ময়নাতদন্তের রিপোর্টও পরিবারকে দেওয়া হয়নি। এরপর রাজ্য পুলিশের ওপর কোনও ভরসা নেই। পাল্টা রাজ্য সরকার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে আদালতে। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে নাবালিকার শরীরে বিষ ছিল। তবে ধর্ষণের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এদিনের শুনানি শেষে বিচারপতি মান্থা বলেন, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হবে রাজ্য পুলিশকে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে বাড়ির কাছে একটি পুকুর পাড় থেকে এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ,তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। রাস্তা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে কিশোরীর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তেতে ওঠে কালিয়াগঞ্জ। দফায় দফায় চলে পথ অবরোধ। অশান্ত হয়ে ওঠে কালিয়াগঞ্জ-দুর্গাপুর জাতীয় সড়ক। জনতার রোষের মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। বেপরোয়া ইটবৃষ্টি শুরু হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। তুঙ্গে ওঠে কেন্দ্র-রাজ্য তরজাও।
আরও পড়ুন কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রশাসনের

মঙ্গলবারই কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় আদিবাসী সংগঠন। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় কালিয়াগঞ্জে। কয়েকঘন্টা কাটতে না কাটতেই পুলিশকে মারধরের ছবি ভাইরাল। প্রাণ বাঁচাতে থানা থেকে পালিয়েও রেহাই পেল না পুলিশ। লোকের বাড়িতে খাটের তলায় ঢুকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টার সেই ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। খাটের নীচে আশ্রয় নিলেও লাভ হয়নি। সেখান থেকে বের করে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মার উন্মত্ত জনতার। মুখ থেকে ঝরছে রক্ত। এরপরে হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা পুলিশের। কালিয়াগঞ্জে পুলিশকে মারধরের ভয়ঙ্কর ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে আগেই সিবিআই তদন্ত চেয়ে এবং নাবালিকার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। পাশাপাশি ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যেও আবেদন জানিয়েছিলেন মামালকারীর আইনজীবী। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুত শুনানি করা সম্ভব নয়। আগামী সোমবার মামলার শুনানি হবে।

এদিকে,কালিয়াগঞ্জ কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বিগ্ন বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। দিল্লি সফর কাটছাঁট করে ফিরছেন কলকাতায়। তবে দিল্লিতে বসেই ডিজি ও মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদীর কাছে রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। উল্লেখ্য, নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল কালিয়াগঞ্জ। মৃতার পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। এদিকে পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েনের জেরে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে নাবালিকা। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিষপান। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি ও এসপির পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার এসপি অফিস ঘেরাও করে এবিভিপি, বিজেপি। মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ থানায় আগুন ধরিয়ে দেয় আদিবাসী সংগঠন। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি কালিয়াগঞ্জে। গোটা বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সূত্রের খবর,ইতিমধ্যেই রাজ্যের পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দিল্লি সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত কলকাতা ফেরার। রিপোর্ট তলবও করেছেন তিনি।


More Stories
কোমরে দড়ি নয়,দোষী প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তর সম্মানহানি নয়, বলল আদালত
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা