Home » বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ বহাল রইল, চূড়ান্ত রায় ডিভিশন বেঞ্চের

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ বহাল রইল, চূড়ান্ত রায় ডিভিশন বেঞ্চের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ মেঃ বেশ কয়েকদিন আগেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একসঙ্গে ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এই শূন্যপদে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর নির্দেশনামায় আরও একটি বিষয় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তা হল, এই যে ৩২ হাজারের চাকরি বাতিল করা হল, তাঁদের মধ্যে যাঁরা ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তাঁরা অবশ্যই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভশন বেঞ্চও, ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে ডিভশন বেঞ্চ স্পষ্ট বলে দিয়েছে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যেভাবে তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছিলেন সেটাই করতে হবে পর্ষদকে।

আরও পড়ুন   হাইকোর্টে জোড়া ধাক্কা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

উল্লেখ্য,বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছে প্রাথমিকের ৩৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার। তবে সোমবার জানা গেল, চাকরি বাতিলের সংখ্যাটা ৩৬ হাজার নয়, ৩২ হাজারের কিছুটা বেশি। জানা গিয়েছে, টাইপোগ্রাফিক্যাল ভুলের জন্য এমন সংখ্যা বিভ্রাট হয়েছে। তাই সেই রায় সংশোধনের জন্য বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসেই আবেদন জানান মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। ২০১৪ সালে যে টেট হয়েছিল, তার ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রথম ধাপে নিয়োগ করা হয়। সেই সময় ৪২ হাজার ৫০০ জনের প্যানেল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সেই প্যানেলে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাকি বেনিয়মে চাকরি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন   ‘জাতপাতের ভিত্তিতে জনগণনা এখনই নয়’, পাটনা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশেই সিলমোহর সুপ্রিম কোর্টের

এমন অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা হয়। ইতিমধ্যেই এই ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছে পর্ষদ। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতির সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ অনুমতি দেয়। জরুরি ভিত্তিতে এই মামলা শোনার আর্জি জানানো হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার আগে ৩২ হাজার শিক্ষকের বক্তব্য শোনা হয়নি।


প্রসঙ্গত, ন’বছর আগের টেটের নিয়োগে দুর্নীতি রয়েছে বলে আদালতে মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তবে তিনি বলেছিলেন, এই প্যানেলের ৪২ হাজার ৫০০ জনের নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু সবাই যে বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন তা নয়। কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়ে মেধার ভিত্তিতেও চাকরি পেয়েছেন। তিনি আদালতে বলেন, যাঁরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করা হোক। এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে এই মামলার শুনানিতেই আধ ঘণ্টার নোটিসে জেল থেকে হাইকোর্টে ডাকিয়ে আনা হয়েছিল মানিক ভট্টাচার্যকে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টেও ধাক্কা খেয়েছেন মানিক ভট্টাচার্য। শীর্ষ আদালত বলেছে, ওএমআর শিট জালিয়াতিতে আসল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মানিকই। দেখা গেল তাঁর সময়ে হওয়া ২০১৪-র টেটে এদিন এতোজনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

About Post Author