Home » কুন্তলের চিঠি মামলায় সিবিআই তলবের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কুন্তলের চিঠি মামলায় সিবিআই তলবের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ মেঃ শুক্রবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, বিচারপতি অমৃতা সিনহার তা বহাল রয়েছে। কুন্তল ঘোষ ও অভিষেককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতেই পারে সিবিআই-ইডি। শুক্রবার কোর্ট শেষে গরমের ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। সুতরাং এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সময় কম। আর ঠিক এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা বাদে অভিষেককে নোটিস পাঠাল সিবিআই। কেন্দ্রীয় এজেন্সির নোটিস পাওয়ার পরে নবজোয়ার যাত্রা বন্ধ করে শুক্রবার রাতেই কলকাতায় ফিরে আসছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক এখন বাঁকুড়ায় রয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ২.৩০ নাগাদ সিবিআইয়ের নোটিস পান ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেন কলকাতায় ফিরবেন। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিতে যাওয়ার কথা অভিষেকের।


প্রসঙ্গত,কুন্তল ঘোষের চিঠি মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে সিবিআই জেরা করতে পারবে অভিষেককে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সুপ্রিম কোর্ট, এই নির্দেশের ওপর প্রথমে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়, তারপর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে মামলা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, অভিষেকের মামলা সরিয়ে বিচারপতি অমৃতা সিনহার ডিভিশন বেঞ্চে পাঠান। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি সিনহা, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দেননি। অর্থাৎ ইডি-সিবিআই চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে অভিষেক ও কুন্তলকে। সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার প্রথমে বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন অভিষেক।


এর আগে গত ১৫ মে বিচারপতি সিনহা কুন্তল ঘোষের চিঠি কাণ্ডে স্থগিতাদেশ না দিলেও কোনও নির্দেশ দেননি। এদিন বিচারপতি সিনহা দাবি করেন, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজরদারিতে এই মামলার শুনানি চলছিল। সেজন্য বিষয়টি সামনে আসার পরই বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, এবং সমস্ত বিষয় আদালতকে জানানো হয়। তারপরেই আদালত ওই নির্দেশ দেয়। শুনানি শেষে বিচারপতি সিনহা কোনও নির্দেশ দেননি। কুন্তল ঘোষ এর আগে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তদন্তে জেরা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম বলানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন    কুন্তলের চিঠি কাণ্ডে ফের অস্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়


তাই হাই কোর্টের গোচরে এলে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুন্তলের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হোক। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।প্রথমে অভিষেকের জেরায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তারপর মামলাটি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরিয়ে নতুন বিচারপতির নিয়োগের নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। সেই নির্দেশমতো কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাটি স্থানান্তরিত হয় গত সপ্তাহেই। বিচারপতি শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন,এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়?তদন্তকারী সংস্থা যাকে মনে করবে, জেরা করতেই পারে, মন্তব্য করেন বিচারপতি।

About Post Author