Home » এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃতদের ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ

এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃতদের ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ মেঃ এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডের জের। এবার এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মৃত ভানু বাগের ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং খুড়তুতো ভাইকে ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার ধৃতদের কাঁথি আদালতে পেশ করে সিআইডি। ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। ১০দিনের হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এগরার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন কারখানার মালিক ভানু বাগও। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সঙ্গে সঙ্গেই এগরা থেকে ভানুকে কটকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। এই হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় ভানু বাগের।

আরও পড়ুন    দাবদাহের মাঝেই কলকাতা সহ জেলায় জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা

উল্লেখ্য, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওড়িশার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত ভানু বাগের। মারাত্মক বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর ক্ষতবিক্ষত ছিলেন মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণপদ ওরফে ভানু বাগও৷ কিন্তু, সে সব তোয়াক্কা না করেই ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি৷ তখনও ভানু ছিলেন রক্তাক্ত৷ বেশিদূর যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না৷ গত বুধবার সকালেই ওড়িশার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সিআইডির বিশেষ দল৷ ইতিমধ্যেই ভানু ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়৷ সবশেষে রাতেই মিলেছিল সাফল্য৷

সিআইডি আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ভানু৷ ভানুর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং ভাইপো ইন্দ্রজিৎ বাগ৷ গ্রেফতার করা হয় ভানু বাগকেও। তবে গ্রেফতার হলেও ভানুকে রাজ্যে আনা সম্ভব ছিল না৷ ওড়িশায় পৌঁছেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন ভানু বাগ। তাঁকে বেডের উপরে কলাপাতা বিছিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ছবিও প্রকাশ্যে আসে। তবে, ওড়িশা পুলিশ ছিল পাহারায়৷ একটু সুস্থ হলেই ভানুকে ট্রানজিট রিম্যান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হত। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হল ভানুর।

আরও পড়ুন   ফের নোট বাতিল! ২ হাজার টাকার নোট তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া

অন্যদিকে,এগরা বিস্ফোরণের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসল রাজ্য। বেআইনি বাজি তৈরির ব্যবসায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দিল নবান্ন। ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার এবং কমিশনারদের ছ’দফা নির্দেশ পাঠানো হয়েছে নবান্নের তরফে। সেখানে বাজি ব্যবসায় যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বলা হয়েছে, বেআইনি বাজি কারখানায় নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। কোনরকম বিস্ফোরক পেলেই বাজেয়াপ্ত করতে হবে। এমনকী বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রী নিয়ম মেনেই নষ্ট করতে হবে। যাতে আর নতুন করে কেউ এই ব্যবসায় যুক্ত হতে না পারেন, তাই বেআইনি বাজি প্রস্তুতকারক সম্পর্কে সমস্ত তথ্য স্থানীয় থানাকেও জানিয়ে রাখতে হবে। বাজি কারখানায় সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারাই কাজ করেন। তাই প্রয়োজন হলে তাঁদের পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করতে হবে স্থানীয় প্রশাসনকেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের বেআইনি বাজি কারবারের অপকারিতা বুঝিয়ে বলতে হবে। এগরা ১ নম্বর ব্লকের সাহারা খাদিকুল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই মঙ্গলবার রাতে এগরার খাদিকুলে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা।

About Post Author