সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ মেঃ এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গত মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের এগরাতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। এবার এই ঘটনা নিয়েই রাজ্যের ডিজি ও মুখ্যসচিবকে নোটিস পাঠাল কমিশন। নোটিসে বলা হয়েছে, কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে। এই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। ঘটনার পরই খাদিকুল গ্রামে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা। কমিশনের দাবি, গ্রামবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী ওই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বাজি কারখানা চলছে। মোট ১৫ জন ওই কারখানায় কাজ করত। প্রশাসনিক গাফিলতি স্পষ্ট। এই ঘটনায় সিআইডি কী পদক্ষেপ করেছে, জখমদের চিকিৎসায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সব ওই রিপোর্টে জানাতে হবে রাজ্যকে।
আরও পড়ুন ছুটির দিনে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন ভেটকি মাছের পোলাও

এদিকে, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মৃত ভানু বাগের ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং খুড়তুতো ভাইকে ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার ধৃতদের কাঁথি আদালতে পেশ করে সিআইডি। ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজত চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। ১০দিনের হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারক। এগরার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন কারখানার মালিক ভানু বাগও। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সঙ্গে সঙ্গেই এগরা থেকে ভানুকে কটকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। এই হাসপাতালেই বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় ভানু বাগের।

উল্লেখ্য, এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওড়িশার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় মূল অভিযুক্ত ভানু বাগের। মারাত্মক বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর ক্ষতবিক্ষত ছিলেন মূল অভিযুক্ত কৃষ্ণপদ ওরফে ভানু বাগও৷ কিন্তু, সে সব তোয়াক্কা না করেই ঘটনার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি৷ তখনও ভানু ছিলেন রক্তাক্ত৷ বেশিদূর যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর ছিল না৷ গত বুধবার সকালেই ওড়িশার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সিআইডির বিশেষ দল৷ ইতিমধ্যেই ভানু ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়৷
আরও পড়ুন এগরা বিস্ফোরণ কাণ্ডে ধৃতদের ১০ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ

সবশেষে রাতেই মিলেছিল সাফল্য৷ সিআইডি আধিকারিকদের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ভানু৷ ভানুর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁর ছেলে পৃথ্বীজিৎ বাগ এবং ভাইপো ইন্দ্রজিৎ বাগ৷ গ্রেফতার করা হয় ভানু বাগকেও। তবে গ্রেফতার হলেও ভানুকে রাজ্যে আনা সম্ভব ছিল না৷ ওড়িশায় পৌঁছেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন ভানু বাগ। তাঁকে বেডের উপরে কলাপাতা বিছিয়ে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। সেই ছবিও প্রকাশ্যে আসে। তবে, ওড়িশা পুলিশ ছিল পাহারায়৷ একটু সুস্থ হলেই ভানুকে ট্রানজিট রিম্যান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হত। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হল ভানুর।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?