সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মে: এগরার খাদিকুল গ্রামে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগণার বজবজ চিংড়িপোতা নন্দরামপুর দাসপাড়ায় অবৈধ বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে রাজ্যে রাজনীতিকে উত্তপ্ত করেছে। এবার এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিল সিআইডি। রবিবার রাত আটটা নাগাদ বজবজের চিংড়িপোতা এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আগুন লেগে যায় একটি বাড়িতে। সেখানে বেআইনি বাজি তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তারপর থেকেই রাতভর ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়ে বেআইনি বাজি বিক্রির অভিযোগে বজবজের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে ২০ হাজার কেজিরও বেশি বাজি। গত সপ্তাহে এগরার ঘটনার পরে সেই জেলার বেআইনি বাজি কারখানাগুলিতে অভিযান চালাতে এসপি ও কমিশনার এলাকায় সিপিদের নির্দেশ দিয়েছিল নবান্ন। এমনকী, বেআইনি বাজি ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রবিবার বজবজের ঘটনায় ফের একবার এসপি-সিপিদের একই নির্দেশ দেওয়া হল।
আরও পড়ুন বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামের মহিলাদের দাবি, ‘ স্থানীয় পুলিশ সবকিছুই জানি। ওই গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতেই বাজি তৈরি হয় এবং অধিকাংশ জনেরই লাইসেন্স নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় সূত্রের খবর, যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার উপরের তলায় কাজ হচ্ছিল। বেআইনি ভাবে বাজি মজুতও ছিল সেখানে। হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পাশের পুকুর থেকে জল তুলে তুলে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন প্রতিবেশীরা। পরে দমকল পৌঁছলেও সরু গলিতে ঢুকতে সমস্যা হয়। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাজি তৈরির কাজ চলত বলেই স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ, ঘরে ঘরে কুটিরশিল্পের মতো বহু মানুষ সপরিবার বাজি বানান বেআইনি ভাবে এবং বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রশাসন এ সবকিছুই জানে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে ওই বাড়িটিতেও তেমনটাই বাজি তৈরির কাজ চলছিল।

আরও পড়ুন দণ্ডি কাণ্ডের জের, বনধ সফল করতে তৎপর আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান
ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতসবাজির চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার পর থেকেই রাতভর অতি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে পুলিশ। গোটা গ্রামজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর বাজি ও বাজি তৈরির মশলা উদ্ধার করেছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি অর্ক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাজি বাজেয়াপ্ত করার অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। এলাকাবাসীদের দাবি, ‘মিডিয়ার জন্যই সব হয়েছে, খবর না দেখালে এত কিছু হতো না ‘। গোটা ঘটনা ভুল ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলেই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। সেই জন্য সোমবার সকাল থেকেই গ্রামে ঢোকার রাস্তা অবরোধ করেছেন গ্রামবাসীরা। সংবাদমাধ্যমকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যমের গাড়ি যাতে গ্রামে না ঢোকে,সেইজন্য রাস্তার মুখেই No Entry বোর্ড রয়েছে। এমনকী প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?