সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৪ মে: গরু পাচার মামলায় এবার আরও বিপাকে অনুব্রত মণ্ডল। এবার অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী, মেয়ের নামে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। একইসঙ্গে অনুব্রতর বেশ কিছু অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করেছে ইডির আধিকারিকরা। গরু পাচার মামলার তদন্ত নেমে একাধিকবার ইডি দাবি করেছিল যে, অনুব্রত মণ্ডলের নামে-বেনামে বিপুল টাকার সম্পত্তি করেছেন। তারপর থেকেই শুরু হয় সম্পত্তির খোঁজ। সূত্রের খবর, বুধবার মোট ১১ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে, বোলপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা বিপুল পরিমাণ জমি, শিব শম্ভু ও ভোলে ব্যোম রাইস-মিল সহ আরও অনেক কিছু।

এদিকে, বুধবারই তিহাড় জেলে মেয়াদ বাড়ল অনুব্রত মণ্ডলের। গরু পাচার মামলায় বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত। এদিন রাউস অ্যাভিনিউ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ১০ জুলাই এই শুনানি শোনা হবে।ডকিছুদিন আগেই অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবী মুদিত জৈন তাঁর মক্কেলের জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু, সেই আর্জিও খারিজ হয়ে গেল। আগামী জুন মাসেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেই সূত্রের খবর। ততদিন পর্যন্ত তিহাড় জেলেই ঠাঁই অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের।
আরও পড়ুন জামিনের আর্জি খারিজ, গরু পাচার মামলায় আপাতত জেলেই ঠাঁই অনুব্রতর

আরও পড়ুন মুক্তির তৃতীয় সপ্তাহেই ২০০ কোটির গণ্ডি পার ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র
এদিকে গত মাসেই গরু পাচার মামলায় বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে আদালতে ২০৪ পাতার যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, তাতে কার্যত অভিযোগ করা হয়েছে বিএসএফের বিরুদ্ধেই। আদালতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা দাবিতে বিপাকে কেন্দ্রেরই বাহিনী। বলা হয়েছে, যে চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে গরু পাচার হত, তাতে বড় ভূমিকা ছিল বিএসএফ কর্তাদের। এই প্রসঙ্গ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইডি’র চার্জশিটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে ‘বিএসএফ আধিকারিকদের যোগসাজশে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত মারফত গরু পাচার করা হত। রাত ১১টা থেকে ভোর চারটে পর্যন্ত সীমান্তের নির্দিষ্ট জায়গা হাট করে খুলে দিত বিএসএফ। তারপর পাচার চলত।’ ৪ মে বীরভূমের বেতাজ বাদশা অনুব্রত মন্ডল ও কন্যা সুকন্যা মন্ডলের নামে রাউস এভিনিউ কোর্টে ২০৪ পাতার চার্জশিট পেশ করে ইডি। সূত্রের খবর, ইডির পেশ করা ওই চার্জশিটে নাম ছিল অনুব্রতর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিরও। ইডির চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে যে, গরু পাচারের মাধ্যমে কমপক্ষে ৪৮ কোটি টাকা পেয়েছেন অনুব্রত মন্ডল। এখনও পর্যন্ত মোট ৩২ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইডি।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?