Home » পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির জের, বীরভূম জেলার একাধিক পুরসভার নিয়োগের তথ্য তলব

পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির জের, বীরভূম জেলার একাধিক পুরসভার নিয়োগের তথ্য তলব

সময় কলকাতাডেস্ক,৩১ মেঃ পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার বীরভূম জেলার বিভিন্ন পুরসভার কাছে ২০১৪ সাল থেকে পুরসভায় কাদের কাদের নিয়োগ করা হয়েছে ও ২০১২ ও ২০১৭ সালে পুরসভার চেয়ারম্যানদের নাম ও তার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠালো আরবান ডেভেলপমেন্ট এন্ড মিউনিসিপ্যাল অ্যাফেয়ার্স। ইতিমধ্যেই সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর সহ একাধিক পুরসভার কাছে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির হাতে চলে এসেছিল পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়টিও। কার্যত সে কারণেই এর আগে মঙ্গলবার যাবতীয় তথ্য চেয়ে রাজ্যের পুর দফতর ও মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছিল ইডি।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে মিডলম্যানের সন্ধানে নেমে পুলিশ প্রথমে গ্রেফতার করেছিল তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকে। তার সূত্র ধরে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের আর এক নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শান্তনুর সূত্রে আবার অয়ন শীলের সন্ধান পায় ইডি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, এই অয়নই পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে রীতিমতো সিদ্ধহস্ত ছিল। ইডি সূত্রে বলা হচ্ছে, গত ১০ বছরের মেয়াদে কলকাতা পুর নিগম সহ রাজ্য জুড়ে পুরসভা ও কর্পোরেশনগুলিতে কত নিয়োগ করা হয়েছে, সেই নিয়োগের প্রক্রিয়া কী ছিল, কীভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে, কত জনের প্যানেল তৈরি হয়েছিল, এই সব তথ্যই জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশ মত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে ২০০ কোটির হদিশ পেয়েছিল ইডি। সূত্রের খবর,নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীল শুধুমাত্র পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা তুলেছিলেন। ইতিমধ্যেই এই কথা অয়ন জেরায় স্বীকারও করেছেন বলেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। কিছুদিন আগেই ইডি-র সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী নিয়োগ করেই বিভিন্ন জায়গায় জমি কিনতে শুরু করেন অয়ন। পাশাপাশি নির্মাণ সংস্থা খুলে আবাসন প্রকল্পেও বিনিয়োগ করেন গুণধর অয়ন শীল। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। সবমিলিয়ে এখনও পর্যন্ত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত অয়ন শীলের ৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই আয়কর দফতর থেকে অয়ন সহ পরিবারের সব সদস্যদের গত ৫ বছরের আয়কর রিটার্নের নথি পেশ করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি রয়েছে অয়ন শীল,তাঁর স্ত্রী কাকলি শীল ও কোম্পানির নামে।

আরও পড়ুন   অভিষেকের কনভয়ে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার আরও ১ কুড়মি আন্দোলনকারী


উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল এখন ইডির জালে। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য একএকরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।

About Post Author