স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২ জুন: হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন, তারপর শুরু হচ্ছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ইংল্যান্ডের ওভালে মুখোমুখি হতে চলেছে ক্রিকেটের বাইশ গজের দুই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। এনিয়ে টানা দ্বিতীয় বার এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে ভারত। গতবার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছিল। তাই এবার সতর্ক রোহিত ব্রিগেড। সদ্য আইপিএল শেষ করে ক্রিকেটাররা পাড়ি জমিয়েছেন লন্ডনের পথে। লক্ষ্য একটাই দীর্ঘদিন পর আইসিসি আয়োজিত কোনও টুর্নামেন্ট জয়। ২০১৩ সালে শেষ বারের জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন্স আইসিসির ট্রফি জিতেছিল ভারত। তারপর কেটে গিয়েছে একটি দশক। ভারতীয় ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত থেকে বিরাট কোহলির হাত ঘুরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটন এখন রোহিত শর্মার হাতে।

কিন্তু দ্বি দেশীয় বা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে ভারতীয় দলের সাফল্য। তবে কাঙ্ক্ষিত আইসিসি আয়োজিত কোনও টুর্নামেন্টের খেতাব ঘরে তোলা হয়নি। এরমধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালে পাকিস্তানের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে হার, ২০১৯ সালে একদিনের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার, এবং গত টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডে কাছে লজ্জাজনক হারের ক্ষত। এখন প্রশ্ন উঠছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলিতে ভারতের এই ভরাডুবির কারণ কি? অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার যদিও দুষেছেন দলের মানসিকতাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রাক্তন অজি ওপেনার বলেছেন, “এটা দক্ষতার প্রশ্ন নয়। এই ব্যর্থতার পিছনে রয়েছে সুযোগ এবং মানসিকতার প্রশ্ন। আমি বলতে চাইছি, ক্রিকেট এখানে জীবন, এটি খেলার ডিএনএ। এখানে ক্রিকেটের অন্য কোনও প্রতিযোগী নেই।” পাশাপাশি এই অজি কিংবদন্তি দাবি করেন, ” আমি অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় হাঁটতে পারি। দাড়ি এবং টুপির জন্য কেউ আমাকে চিনতেই পারবে না। কারণ, এদেশে ক্রিকেটের পাশাপাশি অনেক প্রতিযোগিতা রয়েছে। কিন্তু ভারতে তা নেই। ওখানে ক্রিকেটারদের উপর চাপটা অনেকটা বেশী।”

যদিও আগামী ৭ ই জুন থেকে ১১ ই জুন পর্যন্ত ওভালে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে কোনও দলকেই এগিয়ে রাখতে চাননি ম্যাথু হেডেন। তাঁর সাফ দাবি, খেলাটা যদি অস্ট্রেলিয়ার মাঠে হত তাহলে অবশ্যই বাড়তি সুবিধা পেত অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ম্যাচটি যেহেতু ওভালে তাই এই ম্যাচে যে কেউ জিততে পারে বলেই মত প্রাক্তন অজি ওপেনারের। হেডেনের যুক্তি একদম অমূলক নয়। অতীতে অস্ট্রেলিয়ার ওভালের মাঠে পরিসংখ্যান সেই কথাই বলছে। ১৮৮০ সালে প্রথম এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়ান তারপর প্রায় ১৪৩ বছর কেটে গিয়েছে। এই মাঠে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে মোট ৩৮ টি ম্যাচ। জিতেছে মোট ৭ টি ম্যাচ। লন্ডনের এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ জয়ের হার ১৮.৪২।
আরও পড়ুন এই তারকা ডিফেন্ডারকে ছেড়ে দিল বেঙ্গালুরু এফসি,তাঁকে পেতে ঝাঁপাবে কলকাতার দুই প্রধান?

যদিও ভারতের এই মাঠে অতীতে রেকর্ডও খুব আহামরি নয়। ১৪ টি ম্যাচে জিতেছে মাত্র ২ টি ম্যাচ। যদিও শেষবার ইংল্যান্ডকে এই মাঠে বেশ নাস্তানাবুদ করে হারিয়েছিল ভারত। যদিও এই মাঠে ভারত অস্ট্রেলিয়া দুই দলকে বিপাকে ফেলতে পারে বল। কারণ, আইসিসির তরফে সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ম্যাচ খেলা হবে ডিউকস বলে। এই বলে এই দুই দেশ ঘরের মাঠে খেলে না। ভারত ঘরের মাঠে এসজি বলে খেলে অপরদিকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলা হয় কোকাবুরা নামক বলে। ফলে বল নিয়ে দুই দলই এক মেরুতে থাকবে। যদিও আবহাওয়ার কারণে কিছুটা সুযোগ বেশি থাকবে অস্ট্রেলিয়ার। কারণ গত কয়েক মাসে দেশের মাটিতে প্রবল গরমে ম্যাচ খেলতে হয়েছে রোহিতদের। সেখানে ওভালে অনেকটা কম তাপমাত্রায় খেলতে হবে দুই দলকে। এদিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। এমনটাই মত ক্রিকেট মহলের।


More Stories
শক্তিশালী দল গড়ছে মোহনবাগান, রেকর্ড অর্থে এলেন ছাঙতে
আর্জেন্টিনা এখন টিএমসির মতো : দিলীপ ঘোষ
বিশ্বকাপের নতুন মারাদোনা কে?