সময় কলকাতা ডেস্ক,৬ জুনঃ বালেশ্বরের ট্রেন দুর্ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল। তাই সিবিআই তদন্তকে ভয় পাচ্ছে ওরা! সোমবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী, তৃণমূলের প্রকাশ করা অডিও নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি। রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে সিবিআই তদন্তে ভরসা রেখেছে রেলমন্ত্রক। যা দেখে তৃণমূলের অভিযোগ, মৃত্যু ধামাচাপা দিতে এবং নিজেদের দোষ ঢাকতে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে বিজেপি। পালটা শুভেন্দুর দাবি, “তৃণমূলের ষড়যন্ত্র ফাঁস করার জন্য সিবিআই তদন্ত।” এদিকে, শুক্রবার বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এত বড় রেল দুর্ঘটনার পরেও কেন রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
আরও পড়ুন বায়রন বিশ্বাসের বিধায়ক পথ খারিজের দাবি, হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

এই ঘটনা প্রসঙ্গেও আগেও পাল্টা তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে লেখেন, “২০১০ সালের ২৮ মে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস বেলাইন হয়েছিল। তখন কি আপনার পিসি তথা তৎকালীন রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন? সেইসময় প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর মৃত্যুর দায় নিয়ে তিনি কি রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন?” নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “আপনাকে এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই, জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় সিবিআই চার্জশিটে নাম থাকা ছত্রধর মাহাত আপনার পার্টির লোক। ২০২০ সালে জেল থেকে বের হওয়ার পরে তিনি আপনাদের দলের রাজ্য কমিটিতেও চলে গিয়েছিলেন। আর আপনার পিসিই ওই পদে তাঁকে বসিয়েছিলেন। যেখানে দুর্ঘটনার সময় তিনি ছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী।” শুধু অভিষেককে কটাক্ষ নয়, এই দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাশেও দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “মাননীয় রেলমন্ত্রী আইআইটির প্রাক্তনী। ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন আইএএস। এই সঙ্কটের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তি। দুর্ভাগ্যবশত এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দোষীকে রেয়াত করা হবে না।”

বালেশ্বরের রেল বিপর্যয়ের ঘটনায় পরিকাঠামো, সিগনালিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মাঝেই বিপর্যয়ের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মাথায় সোমবার সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে রেলবোর্ডের বৈঠক ডেকেছিলেন রেলমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, এবং আগামী তদন্ত যাতে যথাযথভাবে হয়, তার জন্য রেল বোর্ড সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করছে।’ এদিকে,বালেশ্বর রেল দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সেই দাবিতে সামিল হয়ে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। রেলমন্ত্রীর ইস্তফা প্রসঙ্গে এবার বিরোধীদের একহাত নিলেন বিজেপির সাংসদ ও সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পদত্যাগ কোনো বিষয়ের সুরাহা নয়। যারা ভীরু তাঁরা পালিয়ে যায়। মমতা ব্যানার্জি অনেকবার এরকমভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন।”

আরও পড়ুন বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের
উল্লেখ্য,শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরের বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে ধাক্কা মেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাওড়ার শালিমার থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। একসঙ্গে করমন্ডল এক্সপ্রেস,যশবন্তপুর-হাওড়া এবং একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনা কবলে পরে। পাশাপাশি ধাক্কা লাগে তিনটি ট্রেনের। করমন্ডলের পাশে ছিল মালগাড়ি। ওই ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয় করমন্ডল এক্সপ্রেস। শালিমার-চেন্নাই করমন্ডল এক্সপ্রেসের মোট ১৫ টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। তার মধ্যে সাতটি কামরা উল্টে গিয়েছে। আরও চারটি কামরা ছিটকে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই ছিল যে যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন উঠে যায় এক মালগাড়ির ওপর। ট্রেনের অধিকাংশ বগি ছিটকে পড়ে পাশের লাইনে। একই সঙ্গে পাশের লাইন থেকে আসা যশবন্তপুর- হাওড়া এক্সপ্রেস টিরও দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেল সূত্রে খবর, ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত ১২০০ এরও বেশি মানুষ


More Stories
ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির উদ্ভব
৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল : মামলা গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট
কাকলি ঘোষ দস্তিদার কেন বিস্ফোরক? তাঁর বক্তব্যে কোন ইঙ্গিত?