সময় কলকাতা ডেস্ক,৫ জুন: বালেশ্বরের রেল বিপর্যয়কে ভারতীয় রেলের বিরলতম দুর্ঘটনা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গোটা ঘটনায় পরিকাঠামো, সিগনালিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মাঝেই বিপর্যয়ের প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মাথায় সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রবিবার জরুরি ভিত্তিতে রেলবোর্ডের বৈঠক ডেকেছিলেন রেলমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে, এবং আগামী তদন্ত যাতে যথাযথভাবে হয়, তার জন্য রেল বোর্ড সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করছে।’

এদিকে,বালেশ্বর রেল দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। সেই দাবিতে সামিল হয়ে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও বর্ষীয়ান নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। রেলমন্ত্রীর ইস্তফা প্রসঙ্গে এবার বিরোধীদের একহাত নিলেন বিজেপির সাংসদ ও সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পদত্যাগ কোনো বিষয়ের সুরাহা নয়। যারা ভীরু তাঁরা পালিয়ে যায়। মমতা ব্যানার্জি অনেকবার এরকমভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন।”

আরও পড়ুন ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ, জেলায় জেলায় জারি তাপপ্রবাহের সতর্কতা
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বালেশ্বরে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার পরই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন তৃণমূলের সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এত বড় রেল দুর্ঘটনার পরেও কেন রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। এ নিয়েই এবার পাল্টা তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী টুইট করে লেখেন, “২০১০ সালের ২৮ মে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস বেলাইন হয়েছিল। তখন কি আপনার পিসি তথা তৎকালীন রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন? সেইসময় প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর মৃত্যুর দায় নিয়ে তিনি কি রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন?”

নন্দীগ্রামের বিধায়ক বলেন, “আপনাকে এটাও মনে করিয়ে দিতে চাই, জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় সিবিআই চার্জশিটে নাম থাকা ছত্রধর মাহাত আপনার পার্টির লোক। ২০২০ সালে জেল থেকে বের হওয়ার পরে তিনি আপনাদের দলের রাজ্য কমিটিতেও চলে গিয়েছিলেন। আর আপনার পিসিই ওই পদে তাঁকে বসিয়েছিলেন। যেখানে দুর্ঘটনার সময় তিনি ছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী।” শুধু অভিষেককে কটাক্ষ নয়, এই দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাশেও দাঁড়িয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “মাননীয় রেলমন্ত্রী আইআইটির প্রাক্তনী। ১৯৯৪ ব্যাচের প্রাক্তন আইএএস। এই সঙ্কটের সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য তিনিই উপযুক্ত ব্যক্তি। দুর্ভাগ্যবশত এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দোষীকে রেয়াত করা হবে না।”

উল্লেখ্য,শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। এদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ ওড়িশার বালেশ্বরের বাহানাগা বাজার স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িতে ধাক্কা মেরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাওড়ার শালিমার থেকে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। একসঙ্গে করমন্ডল এক্সপ্রেস,যশবন্তপুর-হাওড়া এবং একটি মালগাড়ি দুর্ঘটনা কবলে পরে। পাশাপাশি ধাক্কা লাগে তিনটি ট্রেনের। করমন্ডলের পাশে ছিল মালগাড়ি। ওই ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয় করমন্ডল এক্সপ্রেস। শালিমার-চেন্নাই করমন্ডল এক্সপ্রেসের মোট ১৫ টি কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। তার মধ্যে সাতটি কামরা উল্টে গিয়েছে। আরও চারটি কামরা ছিটকে গিয়েছে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই ছিল যে যাত্রীবাহী ট্রেনটির ইঞ্জিন উঠে যায় এক মালগাড়ির ওপর। ট্রেনের অধিকাংশ বগি ছিটকে পড়ে পাশের লাইনে। একই সঙ্গে পাশের লাইন থেকে আসা যশবন্তপুর- হাওড়া এক্সপ্রেস টিরও দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। রেল সূত্রে খবর, ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২৯৪ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আহত ১২০০ এরও বেশি মানুষ


More Stories
ওড়িশার জাজপুরে দুর্ঘটনার কবলে জলপাইগুড়িগামী ট্রেন
বিজেপি ইতিহাস জানে না, ভারতকে ধ্বংস করে দিচ্ছে : কাকলি ঘোষ দস্তিদার
জাল লটারির ব্যবসা, অভিযোগ দায়ের