Home » অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার ঘিরে উত্তপ্ত ঠাকুরনগর, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি শুভেন্দুর

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার ঘিরে উত্তপ্ত ঠাকুরনগর, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি শুভেন্দুর

সময় কলকাতা ডেস্ক,১২ জুনঃ ঠাকুরনগরে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। এদিন দুপুরে না গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। মতুয়াধামের ঠাকুরবাড়িতে অভিষেকের জন্য তৈরি তোরণ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শান্তনু ঠাকুরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এমনকী বিকেলে অভিষেককে মূল মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এদিকে, অভিষেক ঠাকুরনগর ছাড়ার পরই তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজনের মারে তাদের বেশ কয়েক জন আহত হন। তৃণমূলও পাল্টা মারধরের অভিযোগ করে। দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

তৃণমূল ও বিজেপি, নিজেদের কর্মীদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি বেঁধে যায়। একে অপরের বিরুদ্ধে মারধর করার অভিযোগ তোলেন। খবর পেয়েই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান মমতাবালা ঠাকুর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরও ঘটনাস্থলে যান এবং পুলিশ তাঁকেও মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, হরিচাঁদ মন্দিরে অভিষেককে পরিকল্পিতভাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং এটা বিজেপির চক্রান্ত। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঠাকুরনগর ছাড়তেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।

আরও পড়ুন    মনোনয়ন ঘিরে অশান্তি রুখতে করা পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের, জারি ১৪৪ ধারা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল রণক্ষেত্রের চেহারা নয়। পুলিশের সামনেই গোটা ঘটনা বলেছে, দাবি করেছেন বিজেপি কর্মীরা। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে মারধর করেছে। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের পুলিশ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন শান্তনু ঠাকুরের নিরাপত্তা রক্ষীরা। শান্তনু ঠাকুরের দাবি, তাকেও পুলিশ আটক করার চেষ্টা করছিল। সম্পূর্ণ বিষয়টি তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কখনই মতুয়াদের কাছে যাননি, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি কখনই সেখানে ঝাণ্ডা নিয়ে প্রবেশ করেনি। তৃণমূল কর্মীরা যেভাবে মতুয়াদের মন্দিরে ঝাণ্ডা নিয়ে ঢুকে জোর করে ঠাকুরবাড়ির দখল নিতে গিয়েছিল তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মন্দিরে প্রবেশ করার আগে তাঁদের ঠাকুরবাড়ি থেকে লিখিত অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল’। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে মারধর প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একজন লোকসভার সাংসদের গায়ে হাত তোলার কি পরিণতি, তা পুলিশ বুঝতে পারবে। ঠাকুরনগরের ঘটনায় তিনি বিচার-বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।’

About Post Author