সময় কলকাতা ডেস্ক,২৩ জুন : যুদ্ধবিগ্রহ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নৃপতি অজাতশত্রু সুপরিকল্পিতভাবে পাটলিপুত্র স্থাপন করেছিলেন যা কিনা বর্তমানের পাটনা । অজাতশত্রু থেকে বর্তমানের পাটনা এই সুদীর্ঘ পথে কিছু কথা উল্লেখ্য।মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পরে গুপ্ত সম্রাটদের আমলেও পাটলিপুত্র রাজধানী ছিল। সে প্রায় ২৩০০ বছর আগের কথা। মাঝে ষোড়শ শতকে শেরশাহ পাটলিপুত্রের নাম বদলে পাটনা রাখেন।এখানে সম্রাট অশোকের সময় তৃতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৃতীয় বৌদ্ধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল । ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সন্ন্যাসী উপগুপ্তের সভাপতিত্বে সেই সম্মেলন হয়েছিল। সেসময় সেই সম্মেলনে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকের অন্যতম অভিধর্ম পিটক সংকলিত হয়েছিল।সবমিলিয়ে পাটলিপুত্র বা পাটনা প্রাচীন সময়কাল থেকে রাজা ও রাষ্ট্রনায়কদের কর্মকান্ডের কেন্দ্র ছিল।
মগধরাজ যে সময় পাটালিপুত্র স্থাপন করেন সেসময় তার মাথায় কাজ করেছিল অন্য রাজাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও বিরোধের কথা। লেগেই থাকত রাজায় রাজায় যুদ্ধ বিগ্রহ। বৈশালীর লিচ্ছবিদের সঙ্গে মগধরাজের বৈরিতা ছিল তুঙ্গে।পার্বত্য এলাকা থেকে সুবিধাজনক কোনও এলাকায় রাজধানী স্থানান্তরিত করার কথা চিন্তা করেন অজাতশত্রু ।অবশেষে নতুন রাজধানী স্থাপনের জন্য তিনি গঙ্গাতীরবর্তী পাটলীপুত্রকে নির্বাচিত করেন এবং সেখানেই দুর্গ নির্মাণ করেন। ছোট দুর্গের পাশাপাশি সূচনা হয় পাটলিগ্রাম জনপদের, পাটলিপুত্র নামে যা পরবর্তীতে খ্যাতি লাভ করে।
পাটলীপুত্র নামটি কোথা থেকে এলো তা সঠিকভাবে জানা যায় না। কেউ বলেন, পাটলী নামের ধান থেকে, কেউ বা বলেন রাজা সুদর্শনের কন্যা পাটলি থেকে।তবে অজাতশত্রুর সময় থেকে দীর্ঘ শতাধিক বছর পাটলীপুত্রের নগরায়নের কোন চিহ্ন মেলে না। দীর্ঘ পুরাতত্ত্বিক খননকার্য চলেছে এই অঞ্চলে। পাটলিপুত্র বা বর্তমান পার্টনার কিছু অংশে অবশ্য খননকার্য চালানো সম্ভব হয়নি।
মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা গ্রন্থে পাটলিপুত্রের নাম পাওয়া যায়।এখানে একাধিক রাজ বংশ তাদের রাজধানী স্থাপন করেছিল। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য বা চাণক্যর নাম জড়িয়ে আছে পাটলিপুত্রের সঙ্গে।
গঙ্গা, গন্ডকী নদীর সংযোগে ছিল পাটলিপুত্র। এই রাজ্যের অবস্থানগত সুবিধা শাসকদের অন্যত্র সাম্রাজ্যবিস্তারে সুবিধে করেছিল। কিভাবে এই সাম্রাজ্য হয়ে উঠেছিল বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র।খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে পাটলীপুত্র ছিল সেকালের বিশ্বের বৃহত্তম শহরগুলির অন্যতম। গুপ্ত ও পাল সাম্রাজ্যের ক্ষেত্রেও পাটলিপুত্র ছিল রাজধানী।তার জীবনের শেষ পর্বে পাটলীপুত্রে এসেছিলেন। তিনি এই শহরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন। সেই সঙ্গে এও বলেছিলেন যে, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও কলহবিবাদের ফলে এই শহর ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তথাগতের বাণী এখনও সত্য প্রমাণিত হয় নি। যুগের সাথে সাথে ভারত তথা পূর্ব ভারতের অন্যতম শহর হিসেবে পাটলিপুত্র বা পাটনা আজও গণ্য।।


More Stories
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক
“ইতিহাসের পাতা থেকে” কালজয়ী : সাহিত্যের মণিমুক্তো
স্বামী বিবেকানন্দের মা বীর জননী আখ্যা পেয়েছিলেন, কিন্তু কার জন্য? জানেন কি?