Home » ভারতীয় ফুটবল দলের সম্পদ হয়ে উঠতে চলেছেন নাওরেম মহেশ সিং

ভারতীয় ফুটবল দলের সম্পদ হয়ে উঠতে চলেছেন নাওরেম মহেশ সিং

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৫ জুন :  নাওরেম মহেশ সিং ধীরে ধীরে নিজেকে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম মুখ করে তোলার লক্ষ্যে  এগোচ্ছেন।আইএসএলে গত দু বছর ধরেই ইস্টবেঙ্গলের লাল হলুদ জার্সিতে চোখে পড়ছিলেন, ভারতের নীল জার্সিতে সুযোগ পাওয়া সময়ের অপেক্ষা ছিল। সুযোগ পেয়েই মহেশ নিজের ঘরানা ও জাত চেনাতে শুরু করেন। দেশের জার্সিতে নিজের অষ্টম ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে নাওরেম মহেশ সিং গোলও পেয়ে গেলেন।সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালের বিরুদ্ধে তাঁর ও সুনীল ছেত্রীর গোলে ভারত ২-০ গোলে জিতল। দুটি গোলই এসেছে সুনীল ও মহেশের যুগলবন্দীতে। নাওরেম মহেশ চোখে পড়ছেন, খুব বেশি করেই চোখে পড়ছেন।

দুই উইং দিয়ে গতিতে অপারেট করতে পারেন, দুপায়ে কাজ রয়েছে, বাঁ পা খুব ভালো চলে। সবচেয়ে বড় কথা নিখুঁত ক্রস করতে পারেন এবং স্ট্রাইকারকে মাপা গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে পারেন ২৪ বছর বয়সী  নাওরেম মহেশ সিং। পায়ে জোরালো শট রয়েছে। ফলে ভালো ফুটবলারের সব ধরনের গুণাবলী তার মধ্যে মজুত। আদতে উইঙ্গার মহেশের জন্ম মণিপুরে। মহেশ শিলং লাজংএর ইউথ প্রোডাক্ট। আই লিগে শিলং লাজং দলের চোখে পড়ার পরে কেরালা ব্লাস্টার্সে গেলেও সুযোগ পান নি। অতঃপর সুদেভা এফ সি হয়ে ইস্টবেঙ্গলে এসে তিনি হয়ে ওঠেন ইস্টবেঙ্গল দলের অন্যতম অস্ত্র।২০২১-২২ মরশুমে ইস্টবেঙ্গল দলের ভরাডুবির মধ্যেও চোখে পড়তে থাকেন একের পর এক ম্যাচে। আইএসএল ডার্বিতেও চোখে পড়েন মহেশ। আইএসএলে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি মহেশের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এফ সি গোয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে আইএসএলে সেই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র জয় এনে দেন। ২০২২-২৩ মরশুমে তিনি আরও ক্ষুরধার হয়ে ওঠেন আর ক্লেইটন সিলভার সঙ্গে একযোগে ইস্টবেঙ্গল দলের হয়ে বেশ কিছু ম্যাচে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনেন।আইএসএলে ইস্টবেঙ্গল সেভাবে সাফল্য না পেলেও মহেশ ও ক্লেইটন বারবার নজর কাড়েন। মহেশ নিজে দুটি গোল করেছিলেন, একাধিক গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন।ক্লেইটন সিলভা আইএসএলে গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের ব্যর্থতার মধ্যেও ১২ টি গোল করেন, যার মধ্যে মহেশ সাতটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

২০২৪ মরশুম পর্যন্ত মহেশের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল দলের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও ট্রান্সফার ফি দিয়ে ইস্টবেঙ্গল থেকে তাঁকে নিজেদের দলে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয় মুম্বাই এফ সি সহ একাধিক দল। ময়দানে গুঞ্জন ছিল, ইস্টবেঙ্গলের ঘর ভাঙিয়ে মহেশকে নিতে উৎসুক মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। এখনও  মহেশের ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার বিষয়ে কোনও খবর নেই।এনিয়ে কোনও সন্দেহ নেই গত আইএসএল মরশুমে হায়দ্রাবাদ দলের ডিফেন্ডার চিঙ্গলেনসানা সিংয়ের পাশাপাশি মহেশ নাওরেম সিংহের উত্থান ছিল নজর কাড়া। মহেশ টানা দুটি মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের প্রাণ ভোমরা ছিলেন, ছিলেন অন্যতম ইমার্জিং ফুটবলার।

 

ভারতীয় দলে মহেশের সুযোগ পাওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা। এবছর মার্চ মাসে হিরো ট্রাই নেশান ইন্টারন্যাশানাল টুর্নামেন্টে মহেশ নাওরেম সিংহ ভারতীয় দলের ১১ জন রিজার্ভ প্লেয়ারের মধ্যে স্থান পেয়ে যান।কয়েকদিন পরেই জাতীয় দলের দরজা খুলে যায় ব্যাঙ্গালুরু এফ সি দলের স্ট্রাইকার শিবাশক্তি আহত হওয়ায়। তাঁর বদলে সুযোগ পেয়ে যান। মায়ানমার দলের বিরুদ্ধে প্রথমবার ভারতের হয়ে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। ছাঙ্গতের পরিবর্ত হিসেবে শেষ কুড়ি মিনিট খেলেন ও অল্প সময়েই ভালো ফুটবল উপহার দেন তিনি।এই টুর্নামেন্টে একাধিক ম্যাচে উইং বরাবর বিপক্ষের সাইড ব্যাকদের ত্রাস হয়ে ওঠেন মহেশ।পরবর্তীতে ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপেও তিনি দলে ছিলেন। হিরো ট্রাই ন্যাশানাল বা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ী জেতে ভারত।তিনি এখন পরিবর্ত হিসেবে বিবেচিত হন না, ভারতীয় দলের অন্যতম সদস্য এখন মহেশ। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় কোচ ইগর স্টিম্যাচ ও সুনীল ছেত্রীও।তরুণ উইঙ্গার  নাওরেম মহেশ সিং যে ক্লাব দলেই থাকুন না কেন, তিনি যে ভারতীয় ফুটবলের ও জাতীয় দলের আগামীদিনের সম্পদ হতে চলেছেন তা নিয়েও সন্দেহ নেই।।

About Post Author