স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ জুন: ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন হল ২৩ শে জুন। কারণ আজ থেকে ১০ বছর আগে ঠিক এই দিনটিতেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল ভারত। সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডকে পাঁচ রানে হারিয়েছিলেন ধোনিরা। এরপর থেকে কেটে গিয়েছে অনেকগুলি বছর। ভারতীয় দলের অধিনায়ক পরিবর্তন হয়েছে একাধিকবার। আমূল পরিবর্তন হয়েছে প্রথম একাদশে। কিন্তু সেদিনের পর থেকে আর কোনো বড় টুর্নামেন্ট জেতা হয়নি ভারতের। এই দশকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের যেমন পরিবর্তন হয়েছে, ঠিক তেমনই পরিবর্তন হয়েছে ওইদিন ভারতের হয়ে খেলা ক্রিকেটারদের জীবনেও। চলুন জেনে নিই তাঁরা এখন কোথায় রয়েছেন?
আরও পড়ুন ‘ঘরের ছেলে ‘ হরমনজ্যোত সিং খাবরা কি সম্ভাব্য ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক?

১. রোহিত শর্মা: সেই দলের দুই ওপেনারের অন্যতম । বর্তমানে ভারতীয় টেস্ট ও একদিনের দলের অধিনায়ক। ২০২১ সালে বিরাট কোহলিকে সরিয়ে রোহিতের কাঁধে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেন নির্বাচকরা। জাতীয় দলের পাশাপাশি আইপিএলেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ব্যাট হাতে সফল হলেও আইসিসির ট্রফিতে তাঁর নেতৃত্বেও ট্রফি খরা কাটেনি ভারতের। সদ্য শেষ হওয়া আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে লজ্জার হারের পর এখন জাতীয় দলে তাঁর নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে।
২. শিখর ধাওয়ান: রোহিত-শিখর জুটি ভারতের ওই টুর্নামেন্টের সাফল্যের অন্যতম কারণ। সেই ফাইনালে রোহিত ব্যর্থ হলেও ২৪ বলে ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন শিখর। বড় মঞ্চে দলের হয়ে বরাবর কথা বলেছে ভারতীয় ক্রিকেটের গব্বরের ব্যাট। তবে এখন আর জাতীয় দলে দেখা যায় না ৩৭ বছরের ক্রিকেটারটিকে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নিজের ক্রিকেট জীবনের ১৫০ তম ম্যাচটি খেলেন তিনি। তবে জাতীয় দলে না খেললেও পঞ্জাব কিংসের হয়ে চুটিয়ে খেলছেন আইপিএলে।

৩. বিরাট কোহলি: বার্মিংহামের এজবাস্টনের সেই ফাইনালে নীল জার্সিধরীদের মধ্যে সব থেকে বেশি রান করেছিলেন কোহলি। মহেন্দ্র সিং ধোনির ছেড়ে যাওয়া ভারতীয় ক্রিকেট দলের মসনদে বসেছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ঘরে ও বাইরে অনেক সিরিজ জিতলেও, আইসিসির ট্রফিতে ব্যর্থ হয়েছে দল। এর মধ্যে পাকিস্তানের কাছে প্রথম বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচে হারতে হয়েছে ভারতকে। ২০২১ সালে তাঁকে দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। জাতীয় দলের পাশাপাশি আইপিএলে আরসিবির দায়িত্বও ছাড়েন কোহলি। এরমধ্যে তাঁর ফর্ম নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ৩৪ বছরের বিরাটকে জাতীয় দলে আবার স্বমহিমায় দেখা যাবে? অধীর আগ্রহে ক্রিকেট ও বিরাট অনুরাগীরা।
৪.দীনেশ কার্তিক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের নানা উত্থান পতনের সাক্ষী। জাতীয় দলে কখনও নিয়মিতভাবে সুযোগ পাননি। গত বছর আইসিসির টি ২০ ফরম্যাটে প্রত্যাবর্তন হয়েছে। জাতীয় দলে নিয়মিত না খেললেও এখনও তাঁকে নিয়ে উন্মাদনা রয়েছে আইপিএলে। গত মরশুমে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে তাঁকে দলে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ক্রিকেট জীবনের গোধূলি লগ্নে এসেও এখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ডিকে।
আরও পড়ুন আটারলি বাটারলি গার্লের নেপথ্যের মানুষ আর নেই

৫. সুরেশ রায়না: ধোনির ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। মিডল অর্ডার সামলানোর পাশাপাশি দুরন্ত ফিল্ডার হিসেবে খ্যাতি ছিল তাঁর। ২০১৩ চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জেতা দলের তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপুর্ণ ও কার্যকরী সদস্য। আজ থেকে তিন বছর আগে ধোনির সঙ্গে তিনিও জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এখন ভারতীয় দলের ম্যাচ থাকলে মাইক হাতে কমেন্ট্রি বক্সে দেখা যায় তাঁকে।
৬. মহেন্দ্র সিং ধোনি: ভারতের হয়ে শেষবার আইসিসি ট্রফি জয়ী দলের কাণ্ডারি। তাঁর ব্যাটে রান না এলেও মগজাস্ত্রে তিনি বিপক্ষকে মাত করতেন। ২০২০ সালে স্বাধীনতা দিবসের দিন এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করেন। জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও আইপিএলে এখনও চেন্নাইকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বেই শেষ মরশুমে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয় সিএসকে। ক্রিকেট মহলের মতে তাঁর সঙ্গে ভারতীয় দল থেকে অবসর গ্রহণ করেছে ক্রিকেটের ভাগ্যও।

৭. রবীন্দ্র জাদেজা: ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানোর অন্যতম কারিগর। ব্যাট, বল, ফিল্ডিংয়ে তাঁর জুড়ি মেলাভার। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান করার পাশাপাশি নিয়েছিলেন দুটি উইকেট। ফাইনালের সেরা ক্রিকেটারও নির্বাচিত হন। সবচেয়ে বেশি উইকেট সংগ্রহ করে জেতেন গোল্ডেন বল পুরস্কারও। এখনও জাতীয় দলে চুটিয়ে খেলে যাচ্ছেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। জাতীয় দলের পাশাপাশি চেন্নাইয়ের হয়েও আইপিএলে দুরন্ত খেলছেন তিনি।
৮. রবিচন্দ্রন অশ্বিন: ওই টুর্নামেন্টে ভারতীয় বোলিংয়ের অন্যতম স্তম্ভ। টুর্নামেন্টে নিয়েছেন ৮ উইকেট। ইকোনমি ৪.৪১। পাওয়ার প্লে তে অশ্বিনের বোলিংকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করেন ভারত অধিনায়ক। এখনও জাতীয় দলে রয়েছেন। তবে বেশ অনিয়মিত। জাতীয় দলে সুযোগ না মিললেও আইপিএলে এখনও তিনি অপরিহার্য। আইপিএল ছাড়াও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত খেলে নিজেকে আরও ক্ষুরধার রাখছেন অশ্বিন।

৯.ভুবনেশ্বর কুমার: ভারতীয় বোলিং অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন ভুবি। তাঁর সুইং বলে বিপক্ষের ব্যাটাররা রীতিমত নাকানিচোবানি খায়। ইংল্যান্ডের সুইং সহায়ক পিচে দুরন্ত বোলিং করেন তিনি। ৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৬ টি উইকেট। ইকোনমি রেট ৩.৯১। তবে বর্তমানে জাতীয় দল থেকে অনেক দূরে ভুবনেশ্বর কুমার। এখন আইপিএলে তাঁকে দেখা যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে।
১০. ইশান্ত শর্মা: জাদেজা পর টুর্নামেন্টের সব থেকে সফল বোলার। ৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। বাইরের মাটিতে তাঁর পেস সবসময় বিপক্ষ ব্যাটারদের মাথা ব্যথার কারণ হয়। ২০২১ সালে ভারতের হয়ে শেষবার টেস্ট ক্রিকেটে দেখা গিয়েছিল ইশান্তকে। চতুর্থ ভারতীয় বোলার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার নজির গড়েন তিনি। জাতীয় দলে অনিয়মিত হলেও আইপিলে শেষ মরশুমে প্রত্যাবর্তন করেছেন দিল্লি ক্যাপিটালের হয়ে। ক্যামিও উপস্থিতিতে নজর কেড়েছেন সকলের। আবার জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করে নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া ৩৪ বছরের দীর্ঘদেহী এই ফাস্ট বলার।

আরও পড়ুন অতীতের পাটলিপুত্র, বর্তমান পাটনার আদিকথা
১১. উমেশ যাদব: ভারতীয় দলের অন্যতম পেস বোলার। ৫ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪ টি উইকেট। তবে এই টুর্নামেন্টের পর ধারাবাহিকতার অভাবে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি তিনি। সদ্য শেষ হওয়া আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দলে ভারতের হয়ে খেলেন উমেশ। যদিও ম্যাচে সেভাবে দাগ কাটতে পারেননি। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট ২ টি উইকেট নেন। অশ্বিনকে দলে না রেখে উমেশকে দলে রাখায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে। জাতীয় দলের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কলকাতা দলের হয়ে খেলছেন উমেশ।


More Stories
পাকিস্তান বধ, সমতায় অজিবাহিনী
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত