সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ জুনঃ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৩১৫ কোম্পানি বাহিনী অনুমোদন করেও দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কিন্তু সেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কার্যত জিলিপির প্যাঁচ তৈরি হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাহিনী মোতায়েনের নকশা সাজিয়েছে, তাতে আপত্তি রয়েছে বিএসএফ-সিআরপিএফ কর্তাদের। আবার তাঁরা যা বলছেন, সেভাবে করতে নারাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্র থেকে প্রথম যে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন তার থেকে প্রতিটি জেলায় এক কোম্পানি করে বাহিনী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরের ৩১৫ কোম্পানি থেকে কোনও জেলায় ১০ কোম্পানি, কোথাও ১৫ কোম্পানি করে ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান সাজিয়েছে কমিশন। কিন্তু বিএসএফ কর্তাদের বক্তব্য, এভাবে প্ল্যান সাজানো যায় না। ৩১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ফোর্স রয়েছে। যেমন, বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ফোর্স ইত্যাদি। কোনও জেলায় ১০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করলে তার মধ্যে বিএসএফ কত, আর সিআরপিএফ বা আইটিবিপি কত ফোর্স তা বলে দিতে হবে। তবেই সরাসরি সেখানে সেই বাহিনী তত সংখ্যক ফোর্স পাঠাবে। কারণ, ফোর্স কলকাতায় নেই। বাইরের রাজ্য থেকে আসবে। কমিশন যেমন ডিপ্লয়মেন্ট করবে তেমন ভাবে তারা ট্রাভেল প্ল্যান সাজাবে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পাল্টা চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে, রাজ্যের তরফে প্রথম দফায় চাওয়া ২২ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তা মোতায়েনও হয়েছে জেলায় জেলায়। তাহলে আরও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কোথায় মোতায়েন হবে? কীভাবে কাজে লাগানো হবে? বলা হয়েছে, এ নিয়ে নোডাল অফিসার অর্থাৎ বিএসএফের আইজি-র সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে হবে। প্রসঙ্গত, বাহিনী চেয়ে মোট তিনবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। প্রথমবার হাই কোর্টের নির্দেশে প্রতি জেলার জন্য এক কোম্পানি করে ২২ কোম্পানি বাহিনী চাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো আরও ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতেই কলকাতা হাইকোর্টে আরও নিরাপত্তা চাইলেন নওশাদ সিদ্দিকী

রবিবার বকেয়া বাহিনী পাঠানোর জন্য কমিশনের আরও একটি চিঠি পৌঁছয় দিল্লিতে।সোমবার সকালেই বাহিনী নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পালটা চিঠি দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। তাতে জানানো হয়েছে, ২২ কোম্পানির পর আরও ৩১৫ কোম্পানি অর্থাৎ মোট ৩৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটে অনুমোদন করা হয়েছে। সেই বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগানো হল? সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে চিঠিতে। এরপর আরও ৪৮৫ কোম্পানি বাহিনী কী প্রয়োজন, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ