সময় কলকাতা ডেস্ক, ৪ জুলাই: কলকাতা হাইকোর্ট প্রথমে নির্দেশ দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে পঞ্চায়েত ভোট করাতে হবে। হাইকোর্টের সেই নির্দেশের পর ২২ জেলার জন্য মাত্র ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কারণ, তখন কমিশন জানিয়েছিল, তাদের হিসাবে স্পর্শকাতর বুথ মাত্র ১৮৯ টি। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা পেশ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভোটে মোট বুথের সংখ্যা ৬১,৬৩৬।

এর মধ্যে ৭.৮৪ শতাংশ বুথ স্পর্শকাতর। অর্থাৎ স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ৪৮৩৪। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন হল এই যে রাতারাতি স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেড়ে গেল, তা কি আদালতের চাপে পড়ে? জবাবে কমিশন এদিন জানায়, যে সময়ে ১৮৯ টি বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, তা ছিল একেবারে প্রাথমিক মূল্যায়ন। কমিশন তখনই জানিয়েছিল, ডায়ানামিক মেথড ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ পরিস্থিতির প্রতি মুহূর্তে এবং দফায় দফায় মূল্যায়ন চলবে। সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে ৪৮৩৪ টি বুথ স্পর্শকাতর। রিপোর্টে কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসেছে তাদের মোতায়েন হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকা, খাওয়া ও পরিবহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও ত্রুটি রাখা হয়নি।

ইতিমধ্যেই এবারের নির্বাচনে স্পর্শকাতর বুথ কোনগুলো হবে, তা চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচন অফিসার ও জেলাশাসকদের এই মর্মে চিঠিও পাঠিয়েছে তারা। এই চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, কোন কোন বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। বলা হয়েছে, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেসব বুথে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল সেইসব বুথকেই এবারের ভোটে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকা বেছে নিতে গতবারের ফলাফলের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে কমিশন। বুথওয়াড়ি গত ভোটের ফলাফল বিচার বিবেচনা করে দেখতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন বেঙ্গালুরুতে বিরোধী বৈঠকের দিন ঘোষণা করল কংগ্রেস, আমন্ত্রণ সব বিরোধী দলকে

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বুথে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল এবং বিজয়ী প্রার্থী ৭৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন, সেগুলোকে ক্রিটিকাল পোলিং বুথ বা স্পর্শকাতর বুথ বলে চিহ্নিত করতে হবে। শুধু তাই নয়, যে নির্বাচনী বুথগুলিতে রিপোল না পুনরায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল সেগুলিকেও স্পর্শকাতর বুথের তালিকায় যোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে চিহ্নিত করতে হবে ‘১৮-র ভোটে কোথায় কোথায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল।কমিশনের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিডিও, পঞ্চায়েত রিটার্নিং অফিসাররা তাঁদের এলাকা কতটা স্পর্শকাতর তা বিবেচনা করে দেখবেন। আগের ভোটে কোথায় কোথায় কারচুপির অভিযোগ ছিল, কোথায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তা সবকিছুই নজরে রাখতে হবে বলেও কমিশন জানিয়েছে। গত ভোটে কোথায় কোথায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে ও এবার কোথায় কোথায় অশান্তির ঘটনা ঘটতে পারে, সে ব্যাপারে ধারণা করে কমিশনকে জানাতে হবে।


More Stories
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
অভিষেকের উপর হামলার নেপথ্যে কারা?
অভিষেকের পরে কল্যাণ