সময় কলকাতা ডেস্ক , ১২ জুলাই : আগে থেকে সংলাপ মুখস্থ করার ব্যাপারে নারাজ ছিলেন তিনি, তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর – সত্যজিৎ রায় এমনটাই বলেছেন যাঁর সম্পর্কে,১২৩ বছর আগে ১৩ জুলাই তারিখটিতে জন্মেছিলেন সেই বাঙালি অভিনেতা- যাঁর প্রভাব আজও বঙ্গ চলচ্চিত্রে অম্লান। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন মুক্তকণ্ঠে। এমন দাপুটে অভিনেতা বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বিরল।তাঁর নাম শচীন্দ্রনাথ দে বিশ্বাস । তাঁদের বংশগত পদবী দে হলেও মোগল সম্রাটের কাছে তাঁদের পূর্বপুরুষ বিশ্বাস উপাধি পেয়েছিলেন। তাঁর মা তাঁকে ছবি নামে ডাকতেন আর সেই নামেই ভুবনজোড়া খ্যাতি পান ছবি বিশ্বাস।ছবি বিশ্বাসকে নিয়ে কত কথাই না লোকমুখে ঘোরে। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রর সংখ্যা যেমন কম নয় তেমনই তাঁকে নিয়ে কাহিনীও কম নয়। মাত্র ৬২ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় অকাল প্রয়াত না হলে তিনি আরও অনেক কিছুই দিতে পারেন চলচ্চিত্রকে।’জলসাঘর ‘ চলচ্চিত্রের অভিনেতা তাঁর জীবনের ‘জলসাঘর’ অসময়ে ভেঙ্গে চলে যাওয়ায় অনেক চলচ্চিত্র পরিচালক তাঁদের ভেবে রাখা চলচ্চিত্রের কাজ আর করেন নি।ছবি বিশ্বাস বঙ্গ চলচ্চিত্রে একটি অসামান্য অধ্যায়।

ছবি বিশ্বাসের অভিনয়সমৃদ্ধ কাবুলিওয়ালা রহমতকে অবশ্যই মনে রাখবে বাঙালি। সাহেব বিবি গোলাম, দাদা ঠাকুর বা ক্ষুদিত পাষান চলচ্চিত্রে ছবি বিশ্বাসের অভিনয় মানুষ মনে রাখবে। তাঁকে মনে রাখবে মানুষ তাঁর সম্ভ্রান্ত ও বনেদি এক অভিনেতা হিসেবে। ৬০ বছর পরেও তাই সত্যজিৎ রায়ের দেবী, কাঞ্চনজঙ্ঘা বা মানুষ দেখে মুগ্ধ বিস্ময়ে। মানুষের ঘোর আর কাটে না।

সত্যজিৎ রায় “অপরাজিত” -র আর্থিক ব্যর্থতার পরে একটি অপেক্ষাকৃত নাটকীয় বিষয়বস্তু নিয়ে ছবি করার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন। পাশাপাশি ছিল মিউজিক্যাল ছবি করার ইচ্ছেও। তারাশঙ্করের গল্পে দুইয়ের সমাহার দেখে অভি বিশ্বাসের কথাই মনে পড়ে সত্যজিৎ রায়ের। জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস সম্পর্কে লিখেছেন, ” ছবি বাবুর মতো অভিনেতা না থাকলে “জলসাঘর “- এর মত কাহিনীর চিত্ররূপ দেওয়া সম্ভব হত কিনা জানিনা। বোধহয় না। একদিকে বিশ্বম্ভর রায়ের দম্ভ ও অবিমৃশ্যকারিতা, অন্যদিকে তার পুত্রবাৎসল্য ও সংগীতপ্রিয়তা এবং সবশেষে তার পতনের ট্র্যাজেডি -একাধারে সবগুলির অভিব্যক্তি একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব ছিল। ”

সত্যজিৎ রায়ের লেখা থেকেই জানা যায় মেকআপের ব্যাপারে খুবই বিশ্বাসের নিজস্ব ভাবনাচিন্তা ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রেই চড়া, যাত্রার মত মেকআপ করতে ভালোবাসতেন। জলসাঘরে এনিয়ে বেগ পেতে হয়েছে সত্যজিৎ রায় কে। সংলাপের কথা উল্টেও দেখতেন না। কাঞ্চনজঙ্ঘা শুটিংয়ের সময় তিনি সংলাপ না পড়লে হুবহু বলে গিয়েছেন প্রতিটি ডায়লগ। সত্যজিৎ রায়ের করা ছবি বিশ্বাসের স্মৃতিচারণায় তাঁর অকালপ্রয়াণের দুঃখ ধরা পড়েছে বারবার।এই দুঃখ সার্বিকভাবে বাঙালির ।


More Stories
পর্তুগালকে আটকে দেওয়া কঙ্গোতে নরমাংস ভক্ষণের প্রথা চালু ছিল!
উত্তর সিকিমের শিক্ষার্থীদের পাশে ভারতীয় সেনা
ছাত্র শাসন মামলায় শিক্ষকের জামিন, আদালতের যুগান্তকারী বার্তা