সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জুলাই : উইম্বলডন এবার নতুনত্বে ভরপুর। আর এই নতুনত্বের সৌরভ প্রথম ছড়িয়েছেন যে চব্বিশ বছরের মেয়েটি তাঁর নাম মার্কেটা ভনড্রোসোভা।প্রায় এক বছর আগে টেনিস খেলতে না পেরে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে এসেছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের ভনড্রোসোভা।তাঁর অস্ত্রোপচার তাঁকে সাম্প্রতিক অতীতে ভুগিয়েছে।গত বছর সদ্য তার অস্ত্রোপচার সেরে ইংল্যান্ড এসেছেন।মেরামত করা বাঁ হাতের কব্জি প্রায় আটকে রাখা , তাই তার ইংল্যান্ড সফর বলতে ছিল তার বোনের সাথে লন্ডনের চারপাশে ঘুরে বেড়ানো। খুব জোর উইম্বলডনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বন্ধুর জন্য উল্লাস আর উৎসাহ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল আগের বছরটা।একটা বছরে সব পাল্টে গেল। মার্কেটা ভনড্রোসোভা এবারের ইংল্যান্ড সফরটি অনেক বেশি স্মরণীয় ছিল। গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইংল্যান্ড ছাড়বেন।বিজয়ীর শিরোপার পাশাপাশি সঙ্গে নিয়ে যাবেন একটি অসামান্য নজির।কি সেই নজির?
তিনি যা করেছেন- উইম্বলডনের দীর্ঘ ইতিহাসে এরকম কিছু দেখা যায় নি। প্রথম কোনও আবাছাই মহিলা হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। এবার প্রথম অবাছাই মহিলা হওয়ার হিসেবে বিজয়িনী হওয়ার লক্ষ্যপূরণে ভনড্রোসোভা, ফাইনালে ২০২২ সালের রানার আপ ওন্স জাবেউরের বিরুদ্ধে ম্যাচে ৬-৪, ৬-৪ জয় ছিনিয়ে নেন ।

২০২৩ সালে উইম্বলডন পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগেই পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল উইম্বলডন ।তবে মহিলা বিভাগে ভনড্রোসোভা যা ঘটিয়েছেন তা অবিশ্বাস্য।পুরুষ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারেজ এবার ফাইনালে জকোভিচকে হারিয়ে যতই তোলপাড় ফেলুন, আলকারেজ ছিলেন শীর্ষবাছাই তারকা। তাঁর এটিপি ৱ্যাঙ্কিং ১। আর ভনড্রোসোভার ৱ্যাঙ্কিং ছিল ৪২।অবাছাই হিসেবে গ্রান্ড স্ল্যাম জয়। ভুলে গেলে চলবে না, আলকারেজ ইউ এস ওপেন জিতেছেন ২০২২ সালে।তাঁর ক্যারিয়ারে খেতাব ১২ টি। এদিকে ভনড্রোসোভার ঝুলিতে একটি মাত্র খেতাব । ফলে আলকারেজের কৃতিত্ব কোনওভাবে ছোট না করেই বলা চলে,অত্যাশ্চর্য কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন ভনড্রোসোভা।
অথচ এরকমই হওয়ার কথা না থাকলেও, কখনও এরকমই কথা ছিল। জুনিয়র লেভেলে দুর্দান্ত খেলে এসেছেন বরাবরের সম্ভাবনাময়ী এই তরুণী। তাঁর ৱ্যাঙ্কিং এখন উইম্বলডন জেতার পরে হয়েছে ১০। তার আগে? সিনিয়র ক্যারিয়ারে ১৪ র বেশি ৱ্যাঙ্কিং হয় নি কখনও। মুখ্য কারণ তাঁর চোট আঘাত। ২০১৯ সালের ফ্রেন্ড ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। ফাইনাল থেকেই আঘাত সমস্যায় ভুগতে থাকেন তিনি। ফলে তাঁর পারফরম্যান্স ওঠা নামা করেছে, কোনও সময়ই ধারাবাহিক দেখায় নি তাঁকে।অথচ জুনিয়র লেভেলে ৱ্যাঙ্কিং একসময় ১ নম্বর ছিল তাঁর।প্রেগে আট বছর বয়সে একটি টুর্নামেন্ট জেতেন, নাইকে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসে তাঁর।মাল্টায় ১৩ বছর বয়সে টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে সিঙ্গলস ও ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।আবার কিছুদিন পরে হারিয়ে যাওয়া। আবার উঠে আসা।তাঁর এই যে ওঠা নামা, এই যে উঁচু নিচু গ্রাফ তা চলছে আজন্ম।
চেক প্রজাতন্ত্রের ছোট্ট শহর শকোলভ, সেখানে জন্ম মার্কেটা ভনড্রোসোভার।মা ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভলিবল প্লেয়ার।চার বছর বয়সে তাঁর বাবা তাকে টেনিসে নিয়ে এলেও ততদিনে বাবা মার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে।তবে বাবা, মা দুজনেই তাঁর জীবনে থেকেছেন, ভরসা জুগিয়ে গিয়েছেন।কোথাও তবুও শেকড়ে নাড়া খেয়ে গিয়েছিল মার্কেটার । অস্থির থেকেছেন ভনড্রোসোভা। ছোটবেলা থেকেই কখনও ফুটবল, কখনও টেবিল টেনিসের দিকে ঝুঁকেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাবার দেখানো পথে এগোতে শুরু করেন। উনিশ বছর পর্যন্ত ঠিকঠাক এগোচ্ছিল। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালের পর থেকে চোট আঘাতে জর্জরিত হয়ে ওঠেন। এমন অস্থির সময়ের মধ্যে তাঁর জীবনে আসে প্রেম।টোকিও অলিম্পিক চলাকালীন তাঁর জীবনে আসেন স্টিফেন সিমেক। ২০২২ সালে তাঁরা বিয়ে সেরে ফেলেন।ধীরে ধীরে আবার লড়াই শুরু হয় চোয়াল চেপে, দাঁতে দাঁত চেপে । চেক তরুণী আর ফিরতে পারবেন না সবাই যখন ধরে নিয়েছেন, তখনই ফিরে এলেন মার্কেটা ভনড্রোসোভা। নজির আপাতত উভয়ত সম্পন্ন -অবাছাই হিসেবে উইম্বলডন জিতে ফেরা এবং অস্থির সময় থেকে নজিরবিহীন ভাবে জীবনের মুলবৃত্তে ফেরা।।


More Stories
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক