সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ জুলাইঃ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গেল সংসদের বাদল অধিবেশন। আর তা চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। এদিন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অধিবেশন শুরু হতেই কেন্দ্রের তরফে কী কী বিল পেশ করা হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মণিপুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। তাদের জন্য গোটা দেশ লজ্জিত হচ্ছে। সকল মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ, রাজ্যের আইন ব্যবস্থা আরও কঠোর করুন। দেশের কোনও প্রান্তেই মহিলাদের অসম্মান করা যাবে না। মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে যেন কোনও খামতি না থাকে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে মহিলাদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’ বুধবারই বাদল অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়েছিল মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মোদি সরকার প্রস্তুত। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল,রাজনাথ সিং, কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি, অনুপ্রিয়া প্যাটেল, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, এসটি হাসান, এআইএডিএমকের থাম্বি দুরাই, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের এডি সিং, আরএসপির এনকে প্রেমচাঁদ-সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।

প্রসঙ্গত,গত ৩ মে একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতিভুক্ত করার বিরোধিতা করছে কুকি সম্প্রদায়৷ আর এ নিয়ে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে৷ তারপর থেকে প্রায় তিন মাস হতে চলল৷ এই প্রথম কংগ্রেস নেতা অশান্ত মণিপুরের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে যাচ্ছেন৷ বর্তমানে মণিপুরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ৩০০ টিরও বেশি ত্রাণশিবিরে বাস করছেন৷ ৩ মে পাহাড়ে ‘ট্রাইবাল সলিডারিটি মার্চ’ হচ্ছিল৷ মেইতেই জনজাতিকে তফশিলি উপজাতির স্বীকৃতি যাতে না-দেওয়া হয়, তার প্রতিবাদে এই মিছিল হচ্ছিল৷ সেখানে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে৷ মেইতেইরা মণিপুরের জনসংখ্যার ৫৩ শতাংশ এবং তারা ইম্ফলের উপত্যকায় বাস করে৷ এদিকে আদিবাসী নাগা ও কুকিরা জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ৷ তারা সাধারণত পাহাড়ি জেলাগুলিতে থাকে৷
আরও পড়ুন সংসদের বাদল অধিবেশনে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার

মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির। এহেন পরিস্থিতিতে মণিপুর নিয়ে লাগাতার আক্রমণের পর গত বুধবার মুখ খোলেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধি। ভিডিও বার্তায় সরকারের কঠোর নিন্দা করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই সরব উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যটির অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় বারে বারে সরব হয়েছিলেন তিনি। মণিপুরে জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি।


More Stories
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
কীর্তি আজাদ “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” নিয়ে সরব
রাজনীতিকে বিদায়, সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা কোয়েলের