সময় কলকাতা ডেস্ক,২৪জুলাই: পঞ্চায়েত ভোট মিটে গেলেও রাজ্যে এখনও ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও ১০ দিন বাংলায় রেখে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ। কলকাতা হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছিল যে এক সঙ্গে সব বাহিনী প্রত্যাহার না করে তারা দফায় দফায় তা প্রত্যাহারে আগ্রহী। এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের আইনজীবী আদালতে জানান, অবশিষ্ট ২৩৯ কোম্পানির বাহিনীর মধ্যে ১৩৯ কোম্পানি বাহিনী ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়ে গিয়েছে। এদিন প্রধান বিচারপতি টিএস শিব্ঞ্জানম তাঁর নির্দেশে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও যখন চাইছে তাহলে আরও ১০ দিন বাহিনী রেখে দেওয়া হোক। যদিও এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথাযথ সহযোগিতা প্রয়োজন। নইলে বাহিনী রেখে দেওয়ার কোনও অর্থ হয় না। যে সব জায়গায় এখনও অশান্তি রয়েছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগানো হোক।’ এদিকে, পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে প্রায় ২০০ স্কুল বাড়ির যে ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গও শুনানির সময়ে ওঠে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কারা এই দুবৃর্ত্ত, যারা স্কুলে ভাঙচুর করেছে? রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান, কোন কোন স্কুলে ভাঙচুর করা হয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করে তা হলফনামায় জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন পাখির চোখ লোকসভা ভোট, ৮০ ঊর্ধ্ব ভোটারের তালিকা তৈরি করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন

এদিন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত আরও ১০ দিন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে রাজ্যে। দফায় দফায় তাদের প্রত্যাহার করা হবে।’ অন্যদিকে, রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই দাবি বিজেপির। তাই গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যে আরও চার সপ্তাহের রাখার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানয় বিজেপি। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। আদালতে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোট মিটে যাওয়ার পর এখনও বিভিন্ন জায়গায় মহিলা শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। বিজেপি কর্মীরা ঘর ছাড়া। বহু এলাকায় এখনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। তাই রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই আরও চার সপ্তাহ কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হোক।’

এদিকে,রাজ্য জুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে জেলায় জেলায় ৩ জন করে নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছিলেন বিএসএফের আইজি এস সি বুদোকোটি। এই নোডাল অফিসারদের জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ফোর্স মোতায়েন করতে হবে। কারণ, পঞ্চায়েত ভোটের আদর্শ আচরণবিধি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এরপর নবান্নে বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলাশাসকদের এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নে একটি বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী, স্বরাষ্ট্র সচিব বিপি গোপালিকা, রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য। সেই বৈঠকে ছিলেন আইজি বিএসএফ এসপি বুদাকোটি। সেই বৈঠকেই ঠিক হয় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরন্তর সমন্বয় রেখে চলবে।ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি এখন পুরোপুরি রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারের মধ্যে রয়েছে। তাই সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও শর্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশের কথা শুনে চলতেই বাধ্য।
আরও পড়ুন মণিপুর ইস্যুতে উত্তাল সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি চেয়ে সংসদে ধরনায় ‘ইন্ডিয়া’ জোট


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি