Home » প্রেমিককে ফোন করতে দেখে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে খুন

প্রেমিককে ফোন করতে দেখে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে খুন

সময় কলকাতা ডেস্ক,৪ আগস্ট : পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলা স্ত্রীকে বারণ করেও কাজ হয় নি। কাজের শেষে  বাড়ি এসে প্রেমিককে ফোন করতে দেখে স্বামী। এরপরেই ক্ষেপে গিয়ে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে খুন  করে সে ।  হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রীকে খুন করার পরে বস্তায় করে মায়ের সাথে দেহটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও সফল হয় নি অভিযুক্ত স্বামী ।বীরভূমের মল্লারপুর থানার সোজ গ্রামের ঘটনা। বুধবার বিকেলে এই ঘটনার কয়েকঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার হয় মৃতার স্বামী ও শাশুড়ি।  স্ত্রীর নাম প্রিয়া মন্ডল (২৩)। হাতুড়ি দিয়ে খুন ও তার মৃতদেহ বস্তাবন্দী করে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মৃতার স্বামী সুফল মন্ডল এবং শাশুড়ি শোভারানী মন্ডলকে বৃহস্পতিবার রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। সুফলের পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত ও শোভারানীর চোদ্দোদিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বীরভূমের  মল্লারপুরের সোজ গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ওয়ারিং মিস্ত্রি  সুফল মেদিনীপুরের  প্রিয়াকে বছর পাঁচেক আগেই ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। তাদের চার বছরের ছোট একটি মেয়েও রয়েছে। সুফল জানিয়েছে, কিছুদিন ধরেই স্ত্রী পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছিল। ফোনে আপত্তিকর ছবি পাঠাচ্ছিল প্রেমিকের কাছে। বারণ করা সত্ত্বেও  প্রিয়া কর্ণপাত করেনি। বুধবার অশান্তি চরম আকার নিলে তাৎক্ষণিক ক্রোধের বশে  স্ত্রীকে হাতুড়ি আঘাতে খুন করে সুফল। খুনের পরে মায়ের সঙ্গে বস্তায় করে মৃতদেহটি বাড়ির কাছে পুকুরের পাশে ঝোপে ফেলে আসে সুফল।

মেয়ের কান্না প্রতিবেশীদের কানে পৌঁছলে প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারে। স্থানীয়রা জানায়, সুফল তাদের কাছে খুনের বিষয়টি স্বীকারও করে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে মল্লারপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ধৃত সুফল মণ্ডলের বাড়ির লাগোয়া  পুকুর পাড় থেকে  বস্তাবন্দী অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।  আদালতে প্রবেশের সময় সুফল মন্ডল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানায় সে খুন করতে চায় নি। সুফল জানায়, বুধবার বাড়ি ঢুকে সে দেখতে পায় ফোনে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলছে  তার স্ত্রী প্রিয়া।সুফল ফোন কেড়ে নিতে গেলে তার  হেলমেটে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মারে  প্রিয়া। রাগের মাথায় হাতুড়ি কেড়ে নিয়ে প্রিয়ার মাথায় মারলে সে মারা যায়। ঘটনা সময় তার মা  বাড়িতে ছিল না। স্ত্রীর মৃতদেহ বস্তবন্দী করতে মায়ের সাহায্য নেয় সুফল। তার স্ত্রীর খুনের জন্য তার মা জড়িত নয় বলেই  জানিয়েছে অভিযুক্ত সুফল।।

আরও পড়ুন :রামনবমী হিংসা মামলার সব নথি এনআইএ-র হাতে তুলে দিল রাজ্য পুলিশ

About Post Author