Home » ইলিশ – চিংড়ি যুদ্ধ , জিতবে কে?

ইলিশ – চিংড়ি যুদ্ধ , জিতবে কে?

সময় কলকাতা ডেস্ক,১২ আগস্ট :আর কয়েক ঘন্টা পরেই কলকাতা ময়দানের ডার্বি।বিশ্বজুড়ে বাঙালি আজ কমবেশি দুভাগে ভাগ হয়ে যাবেন এই ম্যাচ  ঘিরে। দুই শিবিরের কাছে সম্মানের লড়াই কলকাতা ডার্বি। ইলিশ – চিংড়ি  যুদ্ধ শনিবার। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচের আবেগে ও উন্মাদনায় ভাসছেন দু দলের সমর্থকরা। ইলিশ – চিংড়ি যুদ্ধ তথা বাঙাল -ঘটি ম্যাচের আগে ফুটবল জ্বর শহর ও শহরতলি জুড়ে। মোহনবাগান বিগত কয়েক বছর ধরেই এই ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য দেখিয়ে আসছে।ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের শেষ আটটি ম্যাচে সুবিধে করে উঠতে পারে নি লাল হলুদ। বিগত তিন বছর ধরেই আই এস এলে ইস্টবেঙ্গল মুখ থুবড়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। ২০১৯ সালের পরে তাদের শুধুই মন্দার মধ্যে কাটছে। তবে এবছর দেশীয় বা বিদেশি – সবদিক থেকেই প্রতিটি পজিশনে ভালো খেলোয়াড় এনে শক্তিশালী দল গড়েছে ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির আগে কার্লেস কুয়াদ্রাত হুঙ্কার ছেড়েছেন, জেতার জন্যই নামবে ইস্টবেঙ্গল। বাগান কোচ নিজেও স্বীকার করেছেন, এবারের ইস্টবেঙ্গল অনেক ব্যালান্সড। সবমিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধছেন। তাঁরা মাঠমুখী হবেন লাল হলুদ মশাল জ্বলে ওঠার আশা নিয়ে। কিন্তু মোহনবাগান অত্যন্ত সেট ও শক্তিশালী টিম। ফলে ইলিশ-  চিংড়ি যুদ্ধ এবার সেয়ানে সেয়ানে হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আদতে ইলিশ – চিংড়ি ম্যাচের প্রকৃত পরিস্থিতি কী?

কোচেরা যাই বলুন, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা যতই আশাবাদী হয়ে উঠুন,বাস্তব হচ্ছে মোহনবাগান টিমের প্রতিটি পজিশনে একাধিক সেরা ভারতীয় বা ভালো আন্তর্জাতিক ফুটবলার রয়েছেন। যারা এই ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে নামবেন তাঁরা হয় ভারতের হয়ে খেলেছেন বা সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলেছেন। ইস্টবেঙ্গল দলে টিম এখনও সেট হয় নি। মন্দার রাও ও খাবড়ার মত অতীত দিনের তারকা আছেন, থাকছেন প্রভসুখন গিল, আছেন নুঙ্গা, গুইতের মত ভবিষ্যতের তারকা। বর্তমান ভারতীয় দলের দুই খেলোয়াড় নন্দ কুমার ও মহেশ নাওরেম রয়েছেন, মাঝমাঠ থেকে যারা বিপক্ষের গোলদুর্গে হানা দিতে পারেন। সাউল ক্রেসপোর ভূমিকা এ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ইস্টবেঙ্গল দলের কাছে। কিন্তু বিদেশী ডিফেন্ডার দুজন সে অর্থে পরীক্ষিত হননি , ভারতের আবহাওয়ায় এখনও মানিয়ে ওঠার সুযোগ পান নি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে নিশু কুমার এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না আগের ম্যাচে রেড কার্ড দেখায়।ক্লেটন থাকলে দলের স্ট্রাইকিং বিভাগ ধারালো হয়ে উঠবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ না থাকলেও এ ম্যাচে হায়দ্রাবাদ থেকে আগত সিভেরিও-র ওর উপর ভরসা করতেই হবে। তবে লড়াইটা মোহনবাগানের সঙ্গে , তাই ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে জমাট হতে হবে। কারণ অস্ট্রেলিয়ান এ লিগে দুরন্ত পারফর্ম করা কামিন্সকে কোচ এই ম্যাচে নামিয়ে দিলে চাপে থাকবে এখনো একসাথে ম্যাচ না  খেলা লাল হলুদ ডিফেন্ডাররা । মোহনবাগান ডিফেন্সও সম্পূর্ণ না হলেও ভাবে এবার অনেকটাই নতুন। প্রীতম কোটাল,স্লাভকো প্রমুখ না থাকার সুবিধে ইস্টবেঙ্গল না নিতে পারলে যথারীতি অন্ধকার কাটবে না ইস্টবেঙ্গলের। কামিন্স বা ফরওয়ার্ড লাইনের ধারালো তারকাদের এখনও ব্যবহার না করা হলেও মোহনবাগানে রয়েছেন হুগো বুমোস, এছাড়াও রয়েছেন অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসোদের মত কুশলী খেলোয়াড়রা ফলে ইস্টবেঙ্গল রক্ষনে চাপ আসবেই। মোহনবাগান মাঝমাঠ ও উইং ধরে  আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের বক্সে আছড়ে পড়বেই। সেক্ষেত্রে লুকাস – জর্ডন এলসে-নুঙ্গা এখনও কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে সন্দেহ আছে। জর্ডন আবার অতিরিক্ত রাফ- টাফ ফুটবল খেলেন, লাল কার্ড দেখার প্রবণতা আছে। ফলে ট্যাকটিকালি ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকারদের ওপর ম্যাচের ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে। মোহনবাগান লক্ষণ ভেদ না করতে পারলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাস বদলানো দুরস্ত – ড্র বা সম্মানসূচক কল করাই মুশকিল হয়ে উঠবে। এজন্য মহেশ, ক্রেসপো, সিভেরিওদের বিশেষ ভূমিকা নিতেই হবে। ইস্টবেঙ্গল এ মরশুমে যত ভালো দল-ই গড়ুক, ধারে-ভারে মোহনবাগান যে অনেকটাই এগিয়ে তা বলাবাহুল্য । যদিও যে কোন ম্যাচে, বিশেষ করে ডার্বিতে ম্যাচ টেম্পারমেন্টই  শেষ কথা বলে।।

About Post Author