স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ অগস্ট: সাধারণত ফুটবলাররা গোল করলে খবর হয়। কিন্তু তিনি গোল না করলে খবর হয়। তিনি বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। দুইমাস আগে ৩৬ বছরে পা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলার। এই বয়সে বেশিরভাগ পেশাদার ফুটবলার খেলার বুট তুলে রাখার কথা চিন্তা ভাবনা করেন। যাঁরা এই বয়সের পরও মাঠে দাপিয়ে বেড়ান, তাঁরা ব্যতিক্রমী। সেই তালিকায় অবশ্যই থাকবেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। যিনি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল বুটের ধারটি আরও বাড়াচ্ছেন। বুধবার ফের মায়ামির জয়ের নাটক। ইউএস ওপেন কাপের সেমিফাইনালে সিনসিনাটির বিপক্ষে গোল না করেও মেসির সৌজন্যেই জয় পেয়েছে তাঁর দল ইন্টার মায়ামি।

আমেরিকার ফুটবল লিগে প্রথমসারির দল সিনসিনাটি। এমএলএস লিগ তালিকার শীর্ষে থাকা দলের বিরুদ্ধে মায়ামিত্র ম্যাচটি যে সহজ হবে না সেটাই ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু মায়ামি দলে রয়েছেন এমন একজন, যিনি এরকম অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। এদিনও দেখালেন। এদিন ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল মায়ামি। ১৮ মিনিটে গোল করে সিনসিনাটিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লুসিয়ানো আকোস্টা। যদিও ম্যাচের আগাগোড়া বল দখলের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিচ্ছিলেন আলবা, বুস্কেটস, মেসিরা। গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারছিল না গোলাপি জার্সিধারীরা।

আরও পড়ুন ধূপগুড়িতে ভোটের মুখে চেকিং চলাকালীন বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমান টাকা
উল্টে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার গোল হজম করে বেকায়দায় পড়ে যায় মায়ামি। একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচ হারাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু এরপরেই শুরু হল মেসি ম্যাজিক। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে মাপা সেন্টার করলেন এলএম টেন। ওই সেন্টার থেকে গোল মিস করা কঠিন। হেড মায়ামির হয়ে ১ গোলের ব্যবধান কমালেন লিওনার্দো ক্যাম্পানা। ওই গোলের পর বিপক্ষের রক্ষণে আরও চাপ বাড়াতে থাকে মায়ামি।

যদিও অক্সিজেনসূচক গোলের সন্ধান পেতে তাঁদের অপেক্ষা করতে হল দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময় পর্যন্ত। ৯৭ মিনিটে ফের মেসির গোলের ঠিকানা লেখা পাস থেকে ম্যাচে সমতা ফেরালেন সেই ক্যাম্পানা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফয়সালা না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম তিন মিনিটের মধ্যে গোল পেয়ে যায় টাটা মার্টিনোর ছেলেরা। এবার গোল করেন জোসেফ মার্টিনেজ। যদিও এই জয়ের উচ্ছাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে কুবোর গোলে সমতা ফেরায় সিনসিনাটি। অতিরিক্ত সময়ের শেষে ম্যাচের ফল ৩-৩। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। মেসি-সহ মায়ামির প্রথম পাঁচজন জালে বল জড়ান।

অপরদিকে, সিনসিনাটির পঞ্চম শট আটকে দেন মায়ামির গোলরক্ষক ড্রেক ক্যালেন্ডার। ম্যাচ জিতে যায় মায়ামি। মেসি যোগ দেওয়ার পর এখনও একটিও ম্যাচে হারের মুখ দেখেনি ডেভিড বেকহ্যামের ক্লাব। এদিনও গোল না করলেও অনবদ্য ফুটবলে মন কাড়লেন বিশ্ব ফুটবলের রাজপুত্র। আর তাঁর দল পৌঁছে গেল আরও একটি খেতাবের খুব কাছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ফাইনালে মায়ামি খেলবে হিউস্টন ডায়নামোর বিপক্ষে।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার