সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আইনি নোটিস দিয়েছে প্রাক্তন উপাচার্য দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১২ জন প্রাক্তন উপাচার্য। এহেন পরিস্থিতিতে এবার রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত মেটাতে স্থায়ী উপচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করার জন্যই মূলত সার্চ কমিটি গঠন করে দেবে সুপ্রিম কোর্ট। উপাচার্য নিয়োগে এই সার্চ কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ইউজিসি, রাজ্যপাল, রাজ্যসরকারকে এক সপ্তাহের মধ্যে নাম জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই প্যানেল থেকে সার্চ কমিটি তৈরি করবে শীর্ষ আদালত। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার আগেই প্যানেলের সদস্যদের নাম জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতকে। উল্লেখ্য, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ‘অন্যায় হস্তক্ষেপ’ করছেন। এর আগে এই অভিযোগ তুলেই গত সপ্তাহে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসছিলেন তৃণমূলপন্থী উপাচার্য সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অব্যবস্থা তৈরি করছেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে স্বাক্ষর করছেন না তিনি। এমনকী রাজ্যের সরকারকে সম্মান করছেন না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি রাজ্যপাল প্রচুর মিথ্যা প্রচার করেছেন বলেও দাবি তাদের। এসবের প্রতিবাদেই ওইদিন রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন উপাচার্য সংগঠন।
আরও পড়ুন গরু পাচার মামলায় ফের পিছিয়ে গেল অনুব্রত মণ্ডলের জামিনের শুনানি
প্রসঙ্গত, রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রাজ্যের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’ এই নির্দেশিকার ফলে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধের নির্দেশ জানিয়ে সে নির্দেশিকা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছিল। এরপর উপাচার্য নিয়োগের বৈধতা তুলে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। সেসময় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, রাজ্যপাল যে উপাচার্যদের নিয়োগ করেছিলেন তা বৈধ।


More Stories
অভিষেক নিগ্রহ পর্ব : আদতে হয়েছিল কী? বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, নেতা-নেত্রীরা কী বলছেন!
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার