Home » কসবায় ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

কসবায় ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বরঃ কসবার সিলভার পয়েন্ট স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যজনক ভাবে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। কসবা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। তারপরই হাইকোর্টের দারস্থ হল ওই ছাত্রের পরিবার। মৃতের বাবার অভিযোগ, ‘সঠিক তথ্য মৃতের পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে পুলিশ। ৪ সেপ্টেম্বর, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই সময়ের সঠিক সিসিটিভি ফুটেজ মৃত ছাত্রের পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের তরফে অনেক আবেদনের পরে একটা ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে যে ঘরে শেষবার ওই ছাত্রকে ঢুকতে দেখা গিয়েছে, সেই ঘরের ফুটেজ নেই।’ কার্যত সেকারণেই এবার কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে ওই ছাত্রের মৃত্যুর তদন্তে নজরদারি করার নির্দেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।

এদিন মামলাকারীর আইনজীবী সুপ্রিম নস্কর বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু কান থেকে রক্ত বের হতে দেখা গিয়েছে। এটা খুবই অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা। এমনকী ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা কসবা থানায় গেলেও তাঁদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে দেওয়া হয়নি। ওই পড়ুয়া কখন পড়ে গিয়েছে তারও কোনও ছবি নেই। পাশাপাশি ছাত্রমৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন আইনজীবী সুপ্রিম নস্কর। এরপরই মঙ্গলবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত আদালতে নির্দেশ দেন, কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে তদন্তে নজরদারি করতে হবে। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে তৈরি মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে পেশ করতে হবে। তারপর ওই রিপোর্ট ও ভিডিয়োগ্রাফি দেখিয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেইসঙ্গে সিসিটিভি ও হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন   মহিলা সংরক্ষণ বিলে অনুমোদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার, জেনে নিন এই বিলের ইতিহাস

এর পাশাপাশি আদালত এদিন নির্দেশ দেয়, ময়নাতদন্তের কপি এখনই পরিবারকে হাতে দিতে হবে। আগামী শুনানিতে কেস ডাইরি আদালতে জমা দেবেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ অক্টোবর হবে বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর কসবার সিলভার পয়েন্ট স্কুলের পাঁচতলা থেকে পড়ে যায় ওই দশম শ্রেণির ছাত্র। প্রাথমিক তদন্তের পর জানা যায়, ওই ছাত্র নিজেই স্কুলে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছে। পরিবারের তরফে অভিযোগ ওঠে, স্কুলের প্রোজেক্ট জমা দিতে না পারায় তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়। সেই মানসিক চাপ সহ্য না করতে পেরেই পড়ুয়া এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার পরই গত ৭ সেপ্টেম্বর অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধের নোটিশ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরই রাজ্যের শিশু ও মহিলা সুরক্ষা কমিশন স্কুলে যান। সেইসঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করে তা ফরেনসিকেও পাঠানো হয়। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।

About Post Author