সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ অক্টোবর: পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। রবিবারের পর সোমবারও দিকে দিকে অভিযান শুরু করেছিল তারা।। রানাঘাট,উলুবেড়িয়ার, ডায়মন্ডহারবারের পর সোমবার মধ্যমগ্রাম পুরসভাতেও হানা দিয়েছিল সিবিআই। এসবের মাঝেই মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল হেফাজতের মেয়াদ শেষে ‘মাস্টারমাইন্ড’ অয়ন শীলকে ফের নগর দায়রা আদালতে পেশ করা হল। এদিনই তাঁর মামলা শুনানির জন্য আদালতে উঠবে বলেই জানা গিয়েছে। তার আগে গাড়ি থেকে নামিয়ে অয়নকে হেফাজত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষদের ভূমিকা কী? আপনি এঁদের চেনেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এগুলো আদালতে বিচারাধীন বিষয়। এ নিয়ে এখন কিছু বলা যাবে না।’
আরও পড়ুন রাজ্যের ‘বকেয়া’ আদায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস
প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে আসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল গ্রেফতার হওয়ার পর। ইডি আদালতে দাবি করেছিল, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে উদ্ধার হওয়া নথি দেখে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৬০টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। এমনকী তদন্তে নেমে অয়ন শীলের বিপুল সম্পত্তির হদিশও মিলঞ্ছিল। সেইসঙ্গে অভিযুক্ত এই প্রোমোটার অয়ন শীলের নামে বেশ কয়েকটি ব্যাঙ্ক লকারেরও সন্ধান মিলেছিল। এরপরই ইডি-র হাতে উঠে এসেছিল চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। জানা গিয়েছে,অয়ন শীল এক হাজার জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে ৪৫ কোটি টাকা তুলেছিল যা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকদের। তারপরেই পৃথকভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগে গত ৭ জুন পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি পুরসভা সহ ২০ টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বিধাননগরের পুর দফতরের নগরায়ন দফতরেও চলে তল্লাশি।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পুর নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খায় রাজ্য। সর্বোচ্চ আদালত রক্ষাকবচ দেয়নি। মামলায় যায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সেখানেও এই নির্দেশ বজায় থাকে। রাজ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীল গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে অয়নের অফিস থেকে পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের সল্টলেকের অফিস থেকে ২০১৪-১৫ সালে পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত ৪০০-রও বেশি ওএমআর শিট ও পাওয়া গিয়েছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। পুরসভার গাড়ির চালক,টাইপিস্ট,ক্লার্ক,গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী—একএকটা পদের জন্য এক একরকম দরে বিক্রি হয়েছে চাকরি।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি