Home » রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের ফের ১০০ কোটির সম্পত্তির হদিশ

রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের ফের ১০০ কোটির সম্পত্তির হদিশ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ অক্টোবর: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। এসবের মাঝেই এবার বাকিবুরের বাকি সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়কগাছ ইডির আধিকারিকদের। সূত্রের দাবি, বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠার বেশি। সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের অন্তত ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। চালকল মালিক বাকিবুরের জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৩২ কাঠা। যার মধ্যে বেশিরভাগটাই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং বহরমপুরে। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

আরও পড়ুন   রেশন দুর্নীতি মামলায় বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ইডির হানা

তবে, ঠিক কী কারণে বিদেশে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন বাকিবুর, তা ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখছে ইডি। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, ধৃত বাকিবুর রহমান সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি। পাশাপাশি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৯টি ফ্ল্যাটের হদিশ মিলেছে বলে খবর। কলকাতা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুতে বাকিবুরের রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ, পানশালা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের দুবাইতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলির দাম সাত থেকে দশ কোটি টাকা। সেই ফ্ল্যাটের জন্য বেশিরভাগ টাকা দুবাইতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সরকারিভাবে নথিভুক্ত সম্পত্তির পরিমাণ এতটা হলে বেসরকারিভাবে বাকিবুরের কত সম্পত্তি রয়েছে, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখছে ইডি। জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে বাকিবুরের সঙ্গীরাও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাকিবুরের সঙ্গীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  আবার অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের হামলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, এবার লিউস্টন শহরে চলল গুলি , নিহত অন্তত ২২

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কালো ডায়েরি। সেই ডায়েরির সূত্র ধরেই ইডির হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। ইডির দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে রেশনের আটা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল। সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থায় কত পরিমাণ আটা কত দামে কেনা হয়েছে, তা উদ্ধার হওয়া ডায়েরি থেকে জানতে পেরেছে ইডি। এছাড়াও বাকিবুর রহমানের রাইস মিল থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ১০৯টি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। যদিও বাকিবুরের বিরুদ্ধে রেশনের আটা নিয়ে বেলাগাম দুর্নীতির প্রমাণ আগেই এসেছিল পুলিশের হাতে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নদিয়ার কোতয়ালি, ধুবুলিয়া, নবদ্বীপ এই ৩টি থানায় রেশনের আটা দুর্নীতি নিয়ে মামলাও রুজু করেছিল রাজ্য পুলিশ। এরপরই প্রচুর রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসবের পরেও রমরমিয়ে রেশনের সামগ্রী কালোবাজারি হত বলেই দাবি ইডির।

About Post Author