সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ অক্টোবরঃ কেরলের কালামাসেরির কনভেনশন সেন্টারে ধর্মীয় জমায়েতে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির নাম ডোমিনিক মার্টিন। ত্রিশূরের বাসিন্দা তিনি। জানা গিয়েছে, রবিবারই কোদাকারা থানায় গিয়ে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে ডোমিনিক। কালামাসেরির পুলিশের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এমআর অজিত কুমার জানিয়েছেন, গ্রামীণ ত্রিশূরের কোদাকারা থানায় গিয়ে ডোমিনিক মার্টিন নামে ওই ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করেছে। তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সে মানসিকভাবে সুস্থ কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এদিন ওই কনভেনশন হলে যে ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রার্থনা চলছিল, সে নিজেও ওই একই গোষ্ঠীর সদস্য। ইতিমধ্যেই কোদাকারা থানার পুলিশ ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ব্যাগের ভিতরে কী কী রয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেরালার কালামাসেরির কনভেনশন ও প্রদর্শনী সেন্টারে রবিবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক কিশোরী সহ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতের সংখ্যা প্রথমে ২০ থাকলেও পরে তা বেড়ে ৪০ ছাড়িয়ে যায়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কালামাসেরির ওই কনভেনশন ও প্রদর্শনী সেন্টারে শুক্রবার থেকে খ্রিস্টানদের ‘জিহোবাজ উইটনেস’-এর অনুষ্ঠান চলছিল। এটি খ্রিস্টানদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। রবিবার এই অনুষ্ঠানের শেষ দিন ছিল। এদিন সকালে প্রার্থনার জন্য প্রায় ২ হাজার মানুষ কালামাসেরির ওই কনভেনশন সেন্টারে জমায়েত করেন। প্রার্থনা চলাকালীন পরপর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা কনভেনশন সেন্টার। আত্মরক্ষার জন্য জমায়েতকারীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কনভেনশন সেন্টারে আগুন লেগে যায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।

এই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন দমকল কর্মীরা। আহতদেরকে এর্নাকুলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে দেওয়া হয়। এদিকে এই বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ডিএসপি-র নেতৃত্বে কেরল পুলিশের বিশাল বাহিনী পৌঁছয় কনভেনশন সেন্টার চত্বরে। ঘটনার তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই সিট গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে এই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র হাতে। গোটা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। কেরল পুলিশ জানিয়েছে, হামলার জন্য ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল। টিফিন বক্সের মধ্যে ভরে রাখা হয়েছিল বোমাগুলি। অন্যদিকে, কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বিস্ফোরণের কথা সরকারিভাবে স্বীকার করেনি কেরালা পুলিশ। যদিও এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে জঙ্গিদের হাত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।


More Stories
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?