Home » ইডি দফতরে হাজির আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় এবং দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু

ইডি দফতরে হাজির আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় এবং দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবারের পর মঙ্গলেও ইডি দফতরে হাজির আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। আইএএস কর্তা এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে পৌঁছন দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়ও। দু’জনকেই পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেই ইডি সূত্রে খবর।সোমবারই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তলব করা হয় জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর বাড়ি থেকে এমন কিছু নথি তদন্তকারীরা পেয়েছেন, যা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলেই ইডি সূত্রে খবর। কার্যত সেকারণেই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে সোমবার একাধিক নথি নিয়ে হাজিরাও দেন তিনি। এদিন তাঁকে দু’দফায় প্রায় ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর ইডি অফিস থেকে বেরিয়ে আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ কিছু বলার নেই।’

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে ছিলেন এই জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়। তিনি ডিরেক্টরেট অব লোকাল বডিজ বা ডিএলবি-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডিরেক্টর হিসাবে নিযুক্ত হন। এই ডিএলবি পুরনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পুরনিয়োগের ক্ষেত্রে কারা বরাত পাবেন, সেদিকটাও ডিএলবিই দেখে। প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে পুজোর মুখে রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে ইডি-সিবিআই। প্রতিদিনই দিকে দিকে অভিযান শুরু করেছে তারা। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে তলব করেছিল ইডি। যদিও পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে প্রথম থেকেই ইডির স্ক্যানারে ছিলেন নিতাই দত্ত।

আরও পড়ুন    ইন্দিরা গান্ধীর ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কংগ্রেসের শ্রদ্ধাপ্রকাশ

কেননা ২০১৪-২০১৮ সালের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার বিভিন্ন দফতরে চাকরি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। সে সময়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত। কার্যত সেকারণেই ইডি-র নজরে ছিলেন নিতাইবাবু। এর আগে নিতাই দত্তের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। তার বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছিল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও। উদ্ধার হওয়া সেই নথির ভিত্তিতেই নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। উল্লেখ্য, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই আধিকারিকরা। প্রায় সাত থেকে আটটি গাড়ি চেতলা অগ্রণীর পাশে অবস্থিত মন্ত্রীর ফ্ল্যাটে হানা দেন। প্রায় পাঁচ থেকে ছ’জন গোয়েন্দা আধিকারিক প্রবেশ করেন ফ্ল্যাটের ভিতরে। ফিরহাদ হাকিমের মোবাইল নিয়ে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ফিরহাদের বাড়ির সামনে জমে থাকা ভিড়ের ভিডিওগ্রাফি করে রাখেন সিবিআই আধিকারিকরা।

About Post Author