স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৬ নভেম্বর: আইসিসির ইভেন্টে ভারতের সামনে বরাবরের গাঁট নিউজিল্যান্ড। একদিনের প্রতিযোগিতার নকআউটে নিউজিল্যান্ডকে আগে হারাতে পারেনি ভারত। সেমিফাইনালে যে নিউজিল্যান্ডকে হারানো সহজ হবে না, সেই ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ওয়াংখেড়েতে প্রথমে ব্যাট করে ৩৯৭ রান তোলে ভারত। একদিনের ম্যাচে যা তাড়া করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। বিশ্ব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড পরিচিত হার না মানা মানসিকতার জন্য। বুধবারও সেই লড়াই দেখা গেল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জিততে হল রোহিত ব্রিগেডকে। ভারতের পঞ্চবাণে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল লড়াকু দল বলে পরিচিত নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন উত্তরাখণ্ডে সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনায় শ্রমিকদের উদ্ধারের জন্য আনা হচ্ছে বিশেষ উদ্ধারকারী দল
টস জয় : ওয়াংখেড়েতে টস খুব গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করলে এই মাঠে জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পরিসংখ্যান অন্তত সেই কথা বলছে। আর টস জেতা হারায় ভাগ্যের একটা ভূমিকা থাকে। বুধবার সেই ভাগ্যটা ছিল ভারতের দখলে। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিধান্ত নিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা। মুম্বইয়ে আদ্রতা বেশি থাকায় প্রথমে ফিল্ডিং করে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটাররা। সেই সুযোগ নিল ভারত।
ওপেনিং জুটির সাফল্য: কথায় বলে ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’। প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিত মজবুত করার দরকার ছিল। কাজটি করলেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা-শুভমন গিল জুটি। একদিকে শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন রোহিত। অপরদিকে ধরে খেললেন শুভমন। ৮.২ ওভারে ৭১ রান তোলে ভারত। তার মধ্যে ভারত অধিনায়ক করলেন ২৯ বলে ৪৭ রান। মারলেন ৪ টি চার ও ৪ টি ছয়।
সার্বিক ব্যাটিং সাফল্য: ওপেনিংয়ে রান পেলেন দুই ওপেনার। ২৯ বলে ৪৭ রান করেন রোহিত। গিলের অবদান ৬৬ বলে ৮০ রান। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে না গেলে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটা করে ফেলতেন তিনি। এই দুজনের পর দলের হাল ধরেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়স আইয়ার। দুজনেই শতরান করেন। অর্ধশতবার শতরান করে সচিনকে টপকালেন বিরাট। ৭০ বলে ১০৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন শ্রেয়স। শেষের দিকে ২০ বলে ৩৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন রাহুল। ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৯৭ রানে শেষ হয় ভারতের ইনিংস। ওয়াংখেড়ের মাঠে যা তাড়া করা নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ছিল যথেষ্ট কষ্টসাধ্য।

আরও পড়ুন
শামির ম্যাজিক স্পেল: ৩৯৭ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও রচিন রবীন্দ্র দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ভারতের দুই পেসার বুমরা ও সিরাজ খুব একটা সুবিধে করতে পাচ্ছিলেন না। তখন শামির হাতে বল তুলে দেন রোহিত। প্রথম বলেই কনওয়েকে ফেরান শামি। তারপর ১৮১ রানের বিশাল জুটি খেলেন কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল। একটা সময়ে মনে হয়েছিল ৩৯৭ রান কম পড়ে যাবে। তবে ফের এই জুটি ভাঙেন মহম্মদ শামি। দুজনকে আউট করেন বাংলার বোলার। এছাড়াও টম ল্যাথাম, টিম সাউদি ও লকি ফার্গুসনকেও ফেরান তিনি। মূলত তাঁর দাপটে ৩২৭ রানে শেষ হয়ে যায় কিউয়িদের ইনিংস।
রোহিতের নেতৃত্ব: সর্বোপরি রোহিত শর্মার নেতৃত্ব। ব্যাট হাতে ইনিংস শুরু করে বড় রানের ভিত তৈরি করলেন। সঠিক সময়ে বোলারদের প্রয়োগ করলেন। ভারত অধিনায়কের হাতে রয়েছে মাত্র ৫ জন বোলার। তাঁদেরকে সঠিক সময়ে ব্যবহার করলেন রোহিত।
সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। আগামী রবিবার আহমেদাবাদে ফাইনালে ভারত মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী দলের। একদিনের ক্রিকেটে তৃতীয় বার বিশ্বসেরা হওয়ার হাতছানি রয়েছে রোহিতদের সামনে।


More Stories
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক