Home » নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজের বাড়িতে সিবিআই হানা

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজের বাড়িতে সিবিআই হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ নভেম্বরঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপর সিবিআই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এদিন সকালেই তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী বিধাননগর পুরসভার তৃণমূলের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআই। দেবরাজ বিধাননগর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি। এদিন রাজারহাট রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর বেলা ১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায় দেবরাজকে। তাঁর সঙ্গে সিবিআই-এর আধিকারিকরাও। রাজারহাটের বাড়ি থেকে বেরনোর সময়ে দেবরাজ বলেন, ‘কোর্টের অর্ডারে এই রেইড হয়েছে। আমার আরেকটা রেসিডেন্স রয়েছে। সেখানে আমি যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন     রাজ্যজুড়ে শীতের আমেজ, তারই মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’

এদিকে, বৃহস্পতিবার সাত সকালেই কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর বাড়িতেওঅহানা দেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি। বাপ্পাদিত্য কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক পদে রয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত এই বাপ্পাদিত্য। এদিন তৃণমূল কাউন্সিলের পাটুলির বাড়িতে হাজির হন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল। প্রায় ২০ মিনিট পর তৃণমূল কাউন্সিলর নিজেই দরজা খুলে সিবিআই আধিকারিকদের ভিতরে নিয়ে যান। তৃণমূলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মানসপুত্র হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। পার্থর হাত ধরেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। এরপরই কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর হন।

এদিকে, নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে প্রসন্ন রায়ের পর বুধবার শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন শর্তসাপেক্ষে তাঁকে জামিন দিল দেয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। গ্রুপ সি নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা থেকে এদিন জামিন মিলেছে কল্যাণময়ের। মিডলম্যান প্রসন্ন রায় সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। আর কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে,নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রীর জামিন পাওয়ার পর কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের জামিন পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় বিষয়। কারণ, এই দুর্নীতিতে সরাসরি তাঁর নাম বারংবার উঠে এসেছিল। তবে জামিনের রয়েছে কিছু শর্ত। প্রাক্তন পর্ষদ সভাপতিকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। কলকাতা পুরসভার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় থাকতে হবে তাঁকে। বিধাননগর কমিশনারেট এবং পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না তিনি। এছাড়া, পাসপোর্ট থাকলে তা নিম্ন আদালতে জমা করতে হবে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজন অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন।

About Post Author