Home » ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর প্রভাবে বুধেও কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের সম্ভাবনা

ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর প্রভাবে বুধেও কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগের সম্ভাবনা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বরঃ অবশেষে ল্যান্ডফল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর। শনিবার থেকেই বঙ্গে জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ তারিখের পর সাইক্লোন মিগজাউমের প্রভাব অনেকটাই কমবে এবং রাজ্যে উত্তুরে হাওয়া প্রবেশ করবে। যার কারণে ধীরে ধীরে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই কমবে। শুক্রবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা অনেকটাই কমবে। গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এ পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবারই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছে মিগজাউম। এই সাইক্লোনের প্রভাবে ৭ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সাইক্লোনের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর দাপটে বিপর্যস্ত চেন্নাই, মৃত কমপক্ষে ৮

হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর কারণে বুধবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই সাইক্লোনের ফলে রাজ্যে উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। তবে আগামী সপ্তাহ থেকেই জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়বে বাংলায়। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে শীতের আমেজ বাড়বে। বুধবার কলকাতার আকাশ দিনভর মেঘলাই থাকবে। ভোর হতেই কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কলকাতা সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ আরও কমবে। এদিন কলকাতায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকবে ৫২ থেকে ৮১ শতাংশ।

পূর্বাভাস বলছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও চার-পাঁচ দিন শুকনো আবহাওয়া থাকবে। উত্তরপূর্ব ভারত লাগোয়া জেলাগুলি এবং পার্বত্য এলাকায় কুয়াশার সম্ভাবনা থাকছে। বুধবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়াতে। ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলোয় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, করাইকল এবং দক্ষিণ কর্নাটকে ও কেরালায় বৃষ্টি হবে। বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে। অন্যদিকে, লাক্ষাদ্বীপে বজ্রপাত সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, কঙ্কন ও গোয়া উপকূল, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলঙ্গানাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

About Post Author