সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ মার্চ : “রঙ যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে”-কবিগুরুর এই বর্ণময় শব্দবন্ধ প্রাণ পেয়ে যায় রঙের উৎসবে। রঙের উৎসব ও বসন্ত আবাহন যে অশুভ দমন ও শুভকে উদযাপন- সেকথা প্রতিটি মানুষের প্রাণের গভীরে জাগিয়ে তোলেন পাইওনিয়ার বা পথিকৃৎ মানুষেরা। তাঁরা বারবার স্মরণে ও মননে সম্প্রীতি ও অশুভকে বিলোপ করার মর্মকথার বার্তা দিতে থাকেন । অনেকেই রঙের উৎসব ও দোল পূর্ণিমাকে শুধুমাত্র একটি প্রমোদের তিথি মনে করলেও কিছু মানুষ এক স্বতন্ত্র ধারার বার্তাবাহী। উত্তর ২৪ পরগনার সদর শহর বারাসাতে এরকমই এক পথিকৃৎ মানুষ অন্য এবং অনন্য আঙ্গিকে প্রতিবছর পাইওনিয়ার পার্ক ও সংলগ্ন এলাকার মানুষদের নিয়ে প্রাক দোল উৎসব উদযাপন করেন। তিনি বারাসাতের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সমাজকর্মী দেবব্রত পাল।
দোল পূর্ণিমা ও হোলি আলাদা দুটি উৎসব হলেও রঙের উৎসব উদযাপনের মর্মে রয়েছে অশুভকে দমন করে শুভের আবাহন। এই তিথি পালন পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী হোলিকা দহনের তাৎপর্য বয়ে নিয়ে আসে।বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে ভক্ত প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টায় ব্যর্থ কাম হয়েছিলেন হিরণ্যকশিপু। হিরণ্যকশিপুর প্রচেষ্টাকে ফলপ্রসু করতে গিয়ে তাঁর বোন ‘হোলিকা’ আগুনে দগ্ধ হয়েছিলেন এবং বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ রক্ষা পেয়েছিলেন।সেই পরম্পরা অনুযায়ী রঙের উৎসবের মতো হোলিকা দহন মন্দের ওপর ভালোর প্রতীক।মন্দকে নাশ করে ভালোকে ডেকে আনতে প্রাক দোলে উৎসবে দেবব্রত পাল কিভাবে সম্প্রীতির বার্তা দেন?

এদিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরোয় নাগরিকদের, রং ও আনন্দের উৎসবে মিশে যায় আনন্দপথের গান, বিভিন্ন পেশার আনন্দময় পথের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষ ও সাধারণ নাগরিকরা একাত্ম হয়ে যান। প্রাক দোল তিথির প্রথম প্রভাতে জেগে ওঠে নগর। দূর দুরান্তে ছড়িয়ে যায় বসন্তের গান, জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এক হয়ে যান মানুষেরা। সম্প্রীতির সুবাতাস বয়ে যায় – যে বাতাস বারাসাতের ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রবাহিত হতে থাকে অনন্তে। সৌজন্যে, দেবব্রত পালের মত মানুষ -যিনি বা যাঁরা মনে করেন ও উচ্চারণ করেন যেন অন্তরের টানে রঙের উৎসব অশুভ দমন করার লক্ষ্যে, সম্প্রীতি – সৌহার্দ্য ও সত্যের পথে প্রতিটি মানুষের কর্মে জেগে ওঠে। মানবতার রং মিশে যায় উৎসবের লগ্নে তাঁর মত কল্যাণকামী মানুষদের উদ্বুদ্ধকারী প্রচেষ্টায়।।


More Stories
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও
ভরসা দিচ্ছে বারাসাত থানা, কী এমন করেছে পুলিশ!
লক্ষ্মীর ভান্ডারে লক্ষীলাভ : নববারাকপুরে মহামিছিল