Home » ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর দাপটে বিপর্যস্ত চেন্নাই, মৃত কমপক্ষে ৮

ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর দাপটে বিপর্যস্ত চেন্নাই, মৃত কমপক্ষে ৮

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ডিসেম্বরঃ বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’। ইতিমধ্যেই তা শক্তি বাড়িয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে। যার জেরে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের উপকূলের এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এ পরিণত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে মিগজাউম। এই সাইক্লোনের প্রভাবে ৫ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্যজীবীদের উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সাইক্লোনের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার থেকেই ছিটেফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে রাজ্যে হাওয়া বদল হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৯০-১০০ কিলোমিটার।

আরও পড়ুন  প্রয়াত সিআইডি খ্যাত অভিনেতা দীনেশ ফাডনিশ

জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর এবং মছলিপত্তনমের মাঝামাঝি কোনও জায়গায় আছড়ে পড়বে মিগজাউম। যার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরির উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। মৌসম ভবন জানিয়েছে, সাগরে শক্তি বৃদ্ধি করেছে মিগজাউম। ঘূর্ণিঝড় থেকে পরিণত হয়েছে প্রবল ঘূর্ণিঝড়়ে। মিগজাউমের প্রভাবে ভারী বর্ষণে ইতিমধ্যেই ভেসে গিয়েছে চেন্নাই। এখনও পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ব্যাহত হয়েছে পরিবহণ ব্যবস্থা। টানা দুদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বহু এলাকা জলমগ্ন। যানবাহন জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাঘাট কার্যত নদীতে পরিণত হয়েছে। মেট্রো স্টেশনগুলি জল থৈ থৈ করছে। চেন্নাই বিমানবন্দরের রানওয়ে ভেসে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আসা-যাওয়ার সব বিমান বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে বহু ট্রেনও। বন্ধ রাখা হয়েছে বাস চলাচল। ফলে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’-এর ফলে লাক্ষাদ্বীপে বজ্রপাত সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, কঙ্কন ও গোয়া উপকূল, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলঙ্গানাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা চলতি সপ্তাহে। তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, করাইকল এবং দক্ষিণ কর্নাটকে ও কেরালায় বৃষ্টি হবে। দার্জিলিং, কালিম্পঙে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সাইক্লোনের ফলে রাজ্যে উত্তুরে হাওয়ার প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে শীতের আমেজ বাড়বে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কাটিয়ে শহরজুড়ে উত্তুরে হাওয়ার আমেজ থাকলেও শীতের পথে কাঁটা হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। মঙ্গলবার কলকাতার আকাশ দিনভর মেঘলাই রয়েছে। যদিও ভোর হতেই কলকাতা ও তার আশেপাশের এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কলকাতা সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ আরও কমবে। পূর্বাভাস বলছে, ৫ ডিসেম্বর থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং নদিয়াতে। ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলোয় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূল ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে।

About Post Author