স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর: ইন্ডিয়ান সুপার লিগে অপরাজেয় তকমাটি অক্ষুন্ন রাখল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। ঘরের মাঠ যুবভারতীতে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র করল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। প্রথমার্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মোহনবাগান। সাদিকুর জোড়া গোলে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে ম্যারিনাররা। দ্বিতীয়ার্ধের সংযুক্তি সময়ে খেলার সমতা সূচক গোলটি করেন এই আলবেনিয়ান স্ট্রাইকার।এই ড্রয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকল জুয়ান ফেরান্দোর দল।

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে টানা প্রথম পাঁচ ম্যাচ জিতে নজির গড়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। মিশন ছয়ের লক্ষ্যে বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছিল জুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। প্রতিপক্ষ ওড়িশা এফসি। যেই দলটির কাছে দশ দিন আগে ৫ গোল হজম করতে হয়েছিল জেসন কামিংসদের। সেই হার মোহনবাগানকে ছিটকে দিয়েছিল এএফসি কাপ থেকে। ফলে বুধবারের ম্যাচটি মোহনবাগানের জন্য ছিল হিসেব নেওয়ার। যদিও কাজটি সহজ ছিল না। কারণ চোটের কারণে প্রথম একাদশের একাধিক ফুটবলারকে বাইরে রেখে দল সাজিয়েছিলেন মোহন কোচ। দিমিত্রি পেত্রাতোস বা মানবীর সিংকে যে পাওয়া যাবেন না আগেই জানতেন তিনি। ম্যাচে শুরুর আগে অনুশীলনে চোট পান দলের তারকা মিডফিল্ডার হুগো বুমো। তাঁকে ছাড়াই দল নামাতে হয় ফেরান্দোকে।
ঘরের মাঠে অর্ধশক্তির দল নিয়েও শুরু থেকে দাপট দেখাল মোহনবাগান। সাদিকু, সাহালদের রাখতে বেশ বেগ পেতে হয় স্বাগতিকদের। তবে ৩০ মিনিটের মাথায় ছন্দপতন হয় বাগানের। নিজেদের বক্সে বল হাতে লাগিয়ে বসেন শুভাশিস বসু। ওড়িশাকে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি আহমেদ জাহু। প্রথমার্ধে সেই গোল শোধের সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। সাদিকুর শট বারের অনেকটা উপর দিয়ে উড়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে বরং ব্যবধান দ্বিগুন করে নেয় ওড়িশা। ফের ওড়িশার হয়ে বাগানের জালে বল জড়ান জাহু।

আরও পড়ুন: ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ডের’ শিকার মুশফিকুর, তীব্র কটাক্ষ কলকাতা পুলিশের এই আউটের আসল নিয়মটি ঠিক কী
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরও দুটো ধাক্কা খায় মোহনবাগান। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় অনিরুদ্ধ থাপা ও আব্দুল সামাদকে। তবে সেই ছাপ মোহনবাগানের খেলায় পড়েনি। গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করতে থাকেন সাদিকু, লিস্টনরা। যদিও এই ম্যাচে বেশ নিষ্প্রভ মনে হয়েছে বিশ্বকাপপার কামিংসকে। বরং গোল নষ্ট করলেও মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গেলেন সাদিকু। যিনি গোলের মধ্যে না থাকায় অনেকে তাঁর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। এদিন সব সমালোচনার জবাব দিলেন। খেলার ৫৮ মিনিটে তাঁর করা গোলে, একটি গোল শোধ করে মোহনবাগান। তবে গোলের কৃতিত্ব প্রাপ্য হেক্টর উতসার। রক্ষণ থেকে বিপক্ষের বক্সের কাছে উঠে গিয়েছিলেন তিনি। একটি বল পেয়ে লব পাস করেন সতীর্থ কিয়ান নাসিরিকে। ডান প্রান্ত থেকে সাদিকুকে গোলের বলটি বাড়িয়েছিলেন জামশিদ পুত্রই।
প্রথম গোলের দেখা পেয়ে আরও উজ্জীবিত ফুটবল খেলেন বাগান ফুটবলাররা। পাল তোলা নৌকা বাহিনীর একের পর এক আক্রমণ সামলাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে ওড়িশাকে। তবে গোল মুখ কিছুতেই খুলছিল না মোহনবাগানের। উল্টে দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে সহজ সুযোগ পেয়ে যায় ওড়িশা। নিজের গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে সেই বিপদ থেকে দলকে মুক্ত করেন বিশাল। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের ফুটবলারই একাধিকবার চোটের কবলে পড়েন। সংযুক্তি সময় ৮ মিনিট দেন রেফারি। সেই সময়েই ম্যাজিক দেখালেন ইউরো কাপ খেলা সাদিকু। এবারও বলটি সাজিয়ে দিয়েছিলেন হেক্টর উতসা। বিপক্ষ গোলরক্ষকের পায়ের তলা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন সাদিকু। সঙ্গে সঙ্গে দলের অপরাজেয় তকমা ও ১ টি পয়েন্ট রক্ষা করেন তিনি। খেলার শেষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। অখেলোয়াড় সুলভ আচরণের জন্য লাল কার্ড দেখেন মোহন কোচ ফেরান্দো।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার