Home » সাংসদ নেই, বিধায়ক যেন থেকেও নেই : কৃষ্ণনগরবাসীদের কেউ কেউ ভাগ্য, কেউ আবার কর্মফলকে দুষছেন

সাংসদ নেই, বিধায়ক যেন থেকেও নেই : কৃষ্ণনগরবাসীদের কেউ কেউ ভাগ্য, কেউ আবার কর্মফলকে দুষছেন

বীথিন সরকার ও সায়ক মোদক, সময় কলকাতা,৯ ডিসেম্বর : নদীয়ার কৃষ্ণনগর শহর। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য স্মৃতি বিজড়িত এই শহর যেন অভিভাবকহীন। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, বহিরাগত জনপ্রতিনিধি  থাকায় সেভাবে উন্নয়ন হয়নি ঐতিহাসিক এই শহরের। তার ওপর বিধায়ক মুকুল রায় বার্ধক্য জনিত কারণে শয্যাশায়ী। উভয় সংকটের সঙ্গে যুঝছে কৃষ্ণনগরবাসী। এলাকা ঘুরে কৃষ্ণনগরবাসীদের  সঙ্গে কথা বলে সময় কলকাতার প্রতিনিধি সংকটের হাল হকিকত বোঝার চেষ্টা করলেও পরিষ্কার যে, এই সংকট থেকে সহজে মুক্তির পথ যেন দেখছেন না কৃষ্ণনগরের বাসিন্দারা।

শুক্রবার লোকসভা থেকে ক্যাশ ফর কোয়ারি মামলায় বহিষ্কৃত হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বহিষ্কৃত হওয়ার পর তাঁর সামনে পাঁচটি বিকল্প রাস্তা খোলা রয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সে ক্ষেত্রে এবার কোন পথ বেছে নেবেন মহুয়া? আইনি সাহায্য নিতে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হবেন কি তিনি? যখন এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা তখন কৃষ্ণনগর বাসী এক অর্থে অভিভাবকহীন হয়ে পড়লেন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর বাসী, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র কে। তার আগে টানা ১০ বছর কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন অভিনেতা তাপস পাল। এলাকার অন্যতম বিধায়ক মুকুল রায়। মুকুল রায় অবশ্য এ মুহূর্তে  এমন একজন রাজনীতিক যাকে নিয়ে আর স্বপ্ন দেখেন না কৃষ্ণনগরবাসী, কারণ তাঁর কাছে যাহা তৃণমূল তাহাই বিজেপি । অন্তত মুকুল রায় কে এরকমটাই বলতে শোনা গিয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি শারীরিকভাবে খুব যে সুস্থ আছেন তাও নয়। মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছেন মহূয়া মৈত্রর বর্তমান স্ট্যাটাস। মেয়াদ ফুরানো ৩-৪ মাস আগেই সাংসদ পদ খারিজ হয়ে গেল মহুয়া মৈত্রের। অভিভাবকহীন কৃষ্ণনগরবাসী এই মুহূর্তে কোন অসুবিধায় পড়লে, অথবা বিধায়ক বা সাংসদের সুপারিশ পত্র প্রয়োজন হলে কোথায় যাবেন তাঁরাসেই উত্তর দিনভর খুঁজে বেড়ালো সময় কলকাতা। কিন্তু উত্তর পাওয়া দায়।

এলাকা কার্যত বিধায়কহীন ও সাংসদহীন কৃষ্ণনগরবাসীদের একাংশ নিজেদের ভাগ্যকে এবং অন্যদল নিজেদের কর্মফলকে দুষছেন এরকম পরিস্থিতির জন্য রাজনৈতিক আবর্তে রাজনীতিবিদদের ওপরে দায়ভার চাপানো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এলেও বেশিরভাগ মানুষই মনে করছেন তাপস পাল এবং পরবর্তী সময়ে সাংসদ হিসেবে মহুয়া মৈত্র কৃষ্ণনগরের অভাব অভিযোগ নিয়ে কোনদিনই সরব হননি সংসদে। আগামী দিনে কৃষ্ণনগর শহরের বাসিন্দাদের অনেকেই জনপ্রতিনিধির চয়ন ও তাঁদের কার্যকারিতা সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে চাইছেন। তবে সেই ভাবনা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে কতটা সফল হয়ে উঠবে তা নিয়ে কৃষ্ণনগরবাসীরা ঘোর সন্দেহে রয়েছেন।।

About Post Author